তাহিরপুর উপজেলার টেকাটুকিয়া গ্রামের দেবেন্দ্র বর্মণ ও শুভা রানী বর্মণের বড় মেয়ে যাত্রী। বয়স যখন মাত্র ৮ বছর, তখন থেকেই জীবনের রুদ্র রূপের সঙ্গে পরিচয়। বাবার মৃত্যুর পর পাথর ভাঙা, অন্যের বাসায় কাজ, মেসে রান্না করাসহ সব কাজই করেছেন তিনি। এভাবেই টিকিয়ে রেখেছেন মায়ের সংসার, বোনদের বিয়ে দিয়েছেন। এরপর যখন নিজে বিয়ে করে একটু শান্তির মুখ দেখেছেন, ঠিক তখনই দেখা দিল স্বামীর কিডনির অসুখ। হার না মানা যাত্রী তাই এবার ইজিবাইক নিয়ে রাস্তায় নামলেন।

তবে এই করোনা পরিস্থিতিতে আর বুঝি পেরে উঠছেন না। স্বামীকে হাসপাতালে রেখে ওষুধের টাকা জোগাড় করতে লকডাউনের মাঝেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বাধা উপেক্ষা করে ইজিবাইক চালাতে গেলেই পুলিশ আটক করে। তার কান্নাকাটি দেখে পুলিশ সদস্যরা বেশ ক'দিনই ছেড়ে দিয়েছেন তার ইজিবাইক। কিন্তু সড়কে মানুষ কম থাকায় পরিবারের সদস্যদের খাওয়ার জন্য চাল-ডালের টাকাই আয় করতে পারেননি যাত্রী। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীকে কীভাবে বাঁচান তিনি- চোখেমুখে তাই অমানিশার অন্ধকার তার।

যাত্রী জানান, প্রায় ৭ মাস ধরে তার রিকশাচালক স্বামী অসুস্থ। এ অবস্থায় বহুদিনের পরিশ্রমের উপার্জন এবং এনজিওর ঋণে কেনা দুই ইজিবাইকের একটি বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসা করেছেন। আরেকটি ইজিবাইক চালিয়ে সংসারের অন্যদের খাবার জুগিয়েছেন। কিন্তু স্বামী সুস্থ হননি। চিকিৎসক বলেছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট কিংবা ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে।

যাত্রী জানালেন, সংসারে তার তিন সন্তান, স্বামী আর বৃদ্ধ মা। সারা জীবন নিজে পরিশ্রম করে মানসম্মানের সঙ্গে চলতে চেয়েছেন। বিধি বাম। স্বামীর চিকিৎসা করতেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বিষ্ণুপ্রসাদ চন্দ বললেন, দ্রুত চিকিৎসা করাতে পারলে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। দীর্ঘমেয়াদে এই ইনফেকশন থাকলে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জীবনসংগ্রামে হার না মানা যাত্রী ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পেয়েছেন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে তাকে এই সম্মাননা দেয় জেলা প্রশাসন।

মন্তব্য করুন