মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার পানিধার এলাকার এক ব্যক্তির (৪৫) নমুনা পরীক্ষায় সম্প্রতি করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। গত মঙ্গলবার হঠাৎ তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে অবস্থার অবনতি ঘটে। অনেক খুঁজে কোথাও অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না তার স্বজনরা। পরে তার এক আত্মীয় ফোনে বিষয়টি 'ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস'-এর বড়লেখার সমন্বয়ক ও পৌরসভার কাউন্সিলর রাহেন পারভেজ রিপনকে জানান। ওই দিনই অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় ছুটে যান রিপন। শুধু এই ব্যক্তি নন, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় করোনা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বা তার স্বজন অক্সিজেনের জন্য ফোন করলে এভাবেই বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেয় 'ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস'-এর স্বেচ্ছাসেবীরা। দুই উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন রোগীকে বিনামূল্যে তারা এই সেবা দিয়েছেন।\হচলতি বছরের মে মাসে ১৯টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে যাত্রা শুরু করে ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস। বর্তমানে ৩৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে রাত-দিন মানুষের বাড়ি বাড়ি সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।\হকরোনা আক্রান্ত কেউ যাতে অক্সিজেনের অভাবে মারা না যায়, সেজন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুড়ী উপজেলার বাসিন্দা এসএম জাকির হোসাইন বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন। সেই সঙ্গে গড়ে তোলা হয় স্বেচ্ছাসেবী দল।

'ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস'-এর বড়লেখার সমন্বয়ক ও পৌরসভার কাউন্সিলর রাহেন পারভেজ রিপন বলেন, বড়লেখা উপজেলায় ১৯টি সিলিন্ডার দিয়ে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৪০ জনকে বিনামূল্যে এই সেবা দিয়েছি।\হ'ফ্রি হিউম্যান অক্সিজেন সার্ভিস'-এর জুড়ীর সমন্বয়ক ফয়সল আহমদ বলেন, জুড়ীতে ১৮টি সিলিন্ডার নিয়ে প্রায় ৫০ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে।\হএ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা এসএম জাকির হোসাইন বলেন, করোনার কাছে ধনী-গরিব সবাই অসহায়। দেশ-বিদেশের অনেকে আমাদের এ কাজে সহায়তা করতে চাইছেন। আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন