প্রায় এক যুগ ধরে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ। যাতায়াতের একমাত্র গ্রামীণ সড়কটির বেহাল দশায় গ্রামবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে গ্রামের মসজিদ, মন্দির ও কমিউনিটি ক্লিনিকে যাতায়াত করতে হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করে শুধু আশ্বাসই মিলেছে। বছরের পর বছর ধরে সড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তাই ছাতক সদর ইউনিয়নের তিররাই গ্রামের মানুষ নিজেদের অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করলেন।

গত কয়েকদিন ধরে সকাল-সন্ধ্যা স্থানীয় কিশোর ও যুবকরা স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা তুলে মাটি, ইট, বালু ও বাঁশ কিনে নিজেরাই সড়ক মেরামত কাজ করছেন তারা।

উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়কপথে যাতায়াতের জন্য ২০০৪ সালে তিররাই গ্রামে সরকারি অর্থায়নে কাঁচা এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালে সড়কের অর্ধেক অংশ পাকা করা হয়। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় এবং গত বছরের বন্যায় তিররাই গ্রামের এই সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটারের মধ্যে দেড় কিলোমিটার একেবারে ভেঙেচুরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও কাদার কারণে এ সড়ক দিয়ে রিকশাও চলাচল করতে পারে না। গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কে যানবাহন তো দূরের কথা, রিকশা চলাচলই করছে না। গ্রামবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। গ্রামের লোকজনকেই যদি টাকা খরচ করে রাস্তা নির্মাণ করতে হয়, তাহলে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাজ কী? তিনি সড়কটি দ্রুত পাকা করতে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছাতক সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মন্তব্য করুন