হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া শাহজীবাজারে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলে কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব কিশোর অপরাধী মাদক ব্যবসার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় আসা-যাওয়ার পথে নারী-পুরুষ, শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের নানাভাবে নাজেহাল করছে। চুরি, ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধ করে চলেছে।

মাধবপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ কাজ করে। তাদের টার্গেট করে কিশোর অপরাধীরা হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শাহজীবাজার ও নোয়াপাড়া অঞ্চলের শিল্পকারখানার পূর্ব দিকে চা বাগান ও পাহাড় থাকায় অপরাধীরা অপরাধ করে নিরাপদে পাহাড় ও চা বাগানের দিকে পালিয়ে যায়।

মাধবপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মজিব উদ্দিন তালুকদার ওয়াসিম বলেন, শাহজীবাজার ও নোয়াপাড়া এলাকায় দেশের বৃহৎ প্রায় ২০টি ভারী শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কাজ করেন। কিন্তু মাদকাসক্ত কিশোর অপরাধীরা দিনে-রাতে কারখানায় আসা-যাওয়ার পথে নারী-পুরুষ শ্রমিকদের যৌন হয়রানি, মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। কিছু দিন আগে রাতে চারু সিরামিকের সামনে ওই কারখানার সাইফুল নামে এক কর্মচারীকে তারা ছুরিকাঘাত করে তার মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। তিনি প্রায় তিন মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন শাহজীবাজার এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক নামে এক কিশোর অপরাধীকে আটক করে মাধবপুর থানায় সোপর্দ করেছে। পরে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোয়াপাড়া এলাকার একজন শিক্ষানুরাগী বলেন, নোয়াপাড়া বেঙ্গাডোবায় সাগর ও হৃদয় নামে দু'জন গ্যাং লিডার রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে শিল্প এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ বলেন, নোয়াপাড়ায় কিশোর মাদকাসক্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ওরা রেলস্টেশন এলাকায় মাদক সেবন করে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, 'কিশোর অপরাধ দমনসহ মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আসছি আমরা।'

মাধবপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিল্প শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাসহ সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। শিল্প এলাকায় পুলিশের বাড়তি নজরদারি রয়েছে।

মন্তব্য করুন