শাল্লায় ৫০ কোটি টাকার নদী খনন কোনো কাজে আসছে না। দুই বছর আগে উপজেলার দাড়াইন নদীর (চামতি নদী নামে খনন হয়েছে) শ্রীহাইল এলাকা থেকে ছব্বিশা গ্রাম পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার খনন হয়েছিল। নদীর ওপরের অংশ খনন না হওয়ায় তা কোনো কাজে লাগছে না।

শাল্লার বড় কৃষক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার জানান, ভান্ডার হাওর, ছায়ার হাওর, উদঘল, বরাম ও চাকোই হাওরকে অকাল বন্যা থেকে রক্ষা করতে দুই বছর আগে উপজেলার শ্রীহাইল থেকে ছব্বিশা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার নদী খনন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই নদী দিরাইয়ের ধলের কালনী নদীর মুখ পর্যন্ত খনন করা জরুরি। কালনী নদীর মুখ পর্যন্ত খনন না করায় তা এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

শাল্লার বাহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিধান চৌধুরী জানান, উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় এই নদী খননের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, নদীর ওপরের অংশ খনন না হলে, এই অর্থ ব্যয় অর্থহীন, হাওরগুলো ঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।

শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবণী মোহন দাস বলেন, চামতি নদীর যে অংশ খনন হয়েছে, এর ওপরের অংশ অর্থাৎ দিরাই উপজেলার ধল বাজার পর্যন্ত খনন করা না হলে, যেটুকু খনন হয়েছে, সেই অর্থ অপচয় হিসাবেই ধরে নিতে হবে।

ধলের বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী দোলন চৌধুরী বলেন, ছব্বিশা থেকে নোয়াগাঁও হয়ে কালনীর মুখ পর্যন্ত নদী খনন না হলে, কেবল শাল্লার হাওর নয় দিরাইয়ের বরাম ও টাংনির হাওর অকাল বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। এই নদী খনন হলে হেমন্তে দিরাই-শাল্লার নৌপথ সচল থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দুই বছর আগে দাড়াইন নদীর ২০ কিলোমিটার অংশ খনন হয়েছে। ৫৮ কোটি টাকার বরাদ্দ ছিল ওখানে। কাজ শেষে ঠিকাদার বিল পেয়েছেন ৫০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা জানান, দুই বছর আগে ৫০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় চামতি নদী খনন হয়েছে। এই নদীর ওপরের অংশও খনন করা জরুরি, সেটি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জের ৩২৭ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, এরমধ্যে ওই নদীও ছিল। গত ২৯ আগস্ট পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে এই নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেই সভার নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্গঠিত প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন