নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সফর আলীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ প্রশাসনিক নানা অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গত বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন। এর আগে অধ্যক্ষের অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের ১২ জন শিক্ষক যৌথ স্বাক্ষর দিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বেতন সঠিকভাবে শিওর ক্যাশের মাধ্যমে পোস্টিং না দেওয়া, গত কয়েক বছর ধরে বেতন আদায়ের ক্ষেত্রে বেতন রেজিস্টার বহি রক্ষণাবেক্ষণ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন অধ্যক্ষ।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

তদন্তের শুনানি চলাকালে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ৩২ জন শিক্ষার্থীর মওকুফের আবেদন, অনলাইন বেতন শিট পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই ৩২ জন শিক্ষার্থীর বেতনের ৬৩ হাজার ৭০০ টাকা সার্ভারে এন্ট্রি না করে প্রতিষ্ঠানের হিসাব সহকারী জ্যোতিষ রঞ্জন সরকার, নিম্নমান সহকারী বিন্দু ভূষণ বৈদ্য, খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর নয়ন মনি সরকার কলেজ কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন।\হপ্রতিবেদনে বলা হয়, যেহেতু একটি শ্রেণির একটি শিক্ষাবর্ষের ৩২ জন শিক্ষার্থীর ৬৩ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে, সে হিসাবে অনার্স প্রথম, তৃতীয় বর্ষ, ডিগ্রি (পাস) প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বর্ষ এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে গড়ে ৩২ জন শিক্ষার্থীর (১ বছরে) ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা দুর্নীতি হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফসহ সব আর্থিক বিষয়াদিসহ অন্যান্য কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষর ও অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সফর আলী একচ্ছত্রভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়াই কমিটি গঠন করেছেন, শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ করেছেন। এর ফলে বেতন ফি যথাযথভাবে সার্ভারে এন্ট্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া বেতন রেজিস্টার বই, ক্যাশ বই রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

তদন্তে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সফর আলীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অর্থিক অনিয়ম প্রশাসনিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে কলেজের হিসাব সহকারী সুনাম উদ্দিন, ল্যাব সহকারী জ্যোতিষ রঞ্জন সরকার, নিম্নমান সহকারী বিন্দু ভূষণ বৈদ্য, খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর নয়ন মনি সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া অডিট কমিটির আহ্বায়ক ফজলে এলাহী মো. ফরহাদ, সদস্য মিছবাহ উদ্দিন, শাহ ফুয়াদ ইমাম, মোজাম্মেল আলী শিকদার, শাহিন মিয়া, দুদু মিয়াসহ অনেকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সফর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে বিভিন্নভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নবীগঞ্জ কলেজে অধ্যক্ষ পদায়ন ও কলেজের আর্থিক বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি অডিটের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন