ছাতক উপজেলার বাসিন্দা দুই ব্যক্তি জীবিত থাকলেও ভোটার তালিকায় তারা মৃত। তাই কপাল পুড়ল ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ওই দুই ব্যক্তির। অপর আরও একজন সদস্য প্রার্থীর ভোট অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করায় তিনিও পড়েছেন বিপাকে। ফলে তিনজনেরই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়টি সংশোধনের জন্য উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় এবং ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। বিষয়টি সমাধানে রোববার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈয়দেরগাঁও ইউনিয়নের আলী আহমদ, কমর আলী ও ছিদ্দেকুর রহমান।

ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের মৃত আসক আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী আহমদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছর তার আগ্রহ ছিল নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার। গত ১ জুলাই উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পূবালী ব্যাংক শাখায় অ্যাকাউন্ট করতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, তার (৯০১২৩৮৫৫৭৬১৭৪) জাতীয় পরিচয়পত্রটি অনলাইনে দেখাচ্ছে না। পরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন তাকে মৃত দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রটি বাতিল করা হয়েছে।

একই ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল আউয়ালের ছেলে কমর আলীর জাতীয় পরিচয়পত্রেও তাকে মৃত দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছে। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি করোনার ভ্যাকসিনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (৯০১২৩৮৫৫৭৬৩০৯) নিয়ে নিবন্ধন করতে গেলে তা করা যায়নি। পরে ওই কার্ড নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যাওয়ার পর জানতে পারেন তিনি মৃত! এ জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রটি বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাকলপাড়া গ্রামের আবদুল আমিনের ছেলে ছিদ্দেকুর রহমানকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাচন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, এই ওয়ার্ডে মেম্বার পদে নির্বাচন করার জন্য তিনি বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন। কিন্তু গত ৯ অক্টোবর একটি ফরম পূরণ করতে গেলে জানতে পারেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার লিস্টে তার নাম নেই। একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেরাজপুরে তার ভোট স্থানান্তর করা হয়েছে। তাকে নির্বাচনে প্রার্থী থেকে বঞ্চিত করার জন্য বর্তমান জনপ্রতিনিধিসহ নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে এমন কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

গোবিন্দগঞ্জ-সৈয়দেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে তদন্তের মাধ্যমে অন্যায়কারীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া উচিত।

ছাতক উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান বলেন, পৃথক তিনটি লিখিত আবেদনপত্র সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন