হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একজন এবং অস্ত্র-ডাকাতিসহ এক ডজন মামলার অন্য এক আসামিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেও এবং জলসুখা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে এ দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনীত করেছে।

কাকাইলছেও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ো হয়েছে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়াকে। আর জলসুখা ইউনিয়নে মনোনয়ন পাওয়া শাহজাহান মিয়া অস্ত্র মামলার আসামি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাকাইলছেও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক ভূঁইয়া। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হতে চাচ্ছেন তার ছোট ভাই মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া। আওয়ামী লীগের মনোনয়নও তিনি পেয়েছেন। এর আগে তিনি ৫ বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিও। গত ২৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার বড় ভাই নুরুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন উপজেলার ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন।

মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই সময় তিনি হাফাই মিয়ার কাছে পরাজিত হন। পরে ১৯৯০ সালে আবারও তিনি হাফাই মিয়ার সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০৯ সালে হাফাই মিয়ার ভাতিজা মোশারফ হোসেন মোহনের সঙ্গেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জামানত হারান। সবশেষে ২০১৮ সালে উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হন।

এ বিষয়ে মিজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের যে অভিযোগটি করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইতোমধ্যে অভিযোগটি খারিজ হয়ে গেছে। এর আগে আমি চারবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি, সেটা ঠিক। তবে আমি কখনও কাকাউলছেও ইউনিয়নে পরাজিত হইনি। সুতরাং এবার আমার জয় নিশ্চিত।'

এদিকে, জলসুখা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান মিয়া। তিনি অস্ত্র, ডাকাতি মামলাসহ প্রায় এক ডজন মামলার আসামি। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগে জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি করেছেন।

এ বিষয়ে শাহজাহান মিয়া বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। তবে এর মধ্যে অধিকাংশ মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর অস্ত্র মামলাটি ছিল সাজানো নাটক। আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল।'

জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'মনোনয়ন দেয় কেন্দ্র, আমরা শুধু তালিকা পাঠাই। সুতরাং মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা শাহজাহানের বিষয়টি জেনেছি। তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।'

মন্তব্য করুন