সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সংগঠনের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে সিলেট বিভাগের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে। দলের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

তৃণমূল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য তালিকা জেলা কমিটিতে আসার পর জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তালিকা গত বুধবার সংগঠনের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে যেসব নাম পাঠানো হয়েছে, তার অনেকগুলোই জেলা আওয়ামী লীগের তালিকায় নেই। আবার শেষ মুহূর্তে অনেক নাম হাতে লিখে যুক্ত করা হচ্ছে তালিকায়। মনোনয়ন বোর্ডের দৃষ্টিতে আনার জন্য যে যেভাবে পারছেন, নাম ঢোকানোর চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে মঈনুল হকের নাম তালিকায় প্রথমে দিয়ে মোট তিনজন প্রার্থীর নাম উপজেলায় পাঠায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। উপজেলা আওয়ামী লীগ মঈনুল হকসহ আরও তিন প্রার্থীর নাম জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠায়। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া তালিকায় মঈনুল হকের নাম নেই।

আবার শান্তিগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে তিনজনের নাম গেছে উপজেলা ও জেলায়। কিন্তু স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা হয়েছে প্রথমে একজনের নাম, পরে হাতে লিখে আরও কিছু নাম যুক্ত হয়েছে।

শিমুলবাক ইউনিয়নের জমা দেওয়া তালিকায়ও প্রথমে দু'জনের নাম ছিল। পরে হাতে লিখে রাসেল আহমদের নাম যুক্ত হয়েছে। দরগাপাশা ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেওয়ার সময় তিনজনের নাম ছিল। পরে হাতে লিখে অ্যাডভোকেট আলী শাহানের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের প্রার্থীদের তালিকায় তৃণমূল

ও উপজেলা থেকে অন্যদের মধ্যে এনামুল কবির ও আসাদুর রহমান আসাদের নাম গেলেও কেন্দ্রে জমা দেওয়া তালিকায় এনামুল কবিরের নাম হাতে লিখে

জমা হয়েছে। পশ্চিম পাগলায়ও সুরঞ্জিত টপ্পার নাম হাতে লিখে যুক্ত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ও কাঠইড় ইউনিয়নে হাতে লিখে পরে দুটি নাম যুক্ত হয়েছে।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জেলা আওয়ামী লীগের জমা দেওয়া তালিকার বাইরেও কেউ কেউ দলীয় ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন। আবার তৃণমূলের তালিকা নিয়েও অনেকে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, তৃণমূলের বড় তালিকা উপজেলা আওয়ামী লীগ কিছু ছোট করেছে। জেলা আওয়ামী লীগও কিছু ছোট করে তালিকা কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছে। হাতে লিখে কিছু নাম জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, 'জমা দেওয়ার সময় জরুরি কিছু নাম হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে বলে জানি আমি। তবে সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে গত ইউপি নির্বাচনের চাইতে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে শৃঙ্খলা বেশি ছিল।'

মন্তব্য করুন