মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এক সপ্তাহে ১৫ মন্দিরে চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোরচক্র মন্দিরের মালপত্র চুরির পাশাপাশি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ শ্রীমদ্ভগবত গীতা ছিঁড়ে ফেলেছে। এটিকে অনেকে চুরি না বলে নাশকতাও বলছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার রাতে রহিমপুর ইউনিয়নের দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয় ও জগন্নাথ আশ্রমের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি করা হয়। এর আগের দিন রোববার একই গ্রামের রামপদ ভট্টাচার্য, নিতাই চন্দ্র পাল, অবিনাশ মল্লিক, ঝুনু বৈদ্যর বাড়িতে স্থাপিত মন্দিরেও চুরি সংঘটিত হয়। বাদ যায়নি পতনঊষার ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সুব্রত চক্রবর্তী, সোনারগাঁও গ্রামের হরি দেবনাথ ও মন্মথ দাশের বাড়িতে স্থাপিত মন্দিরও।

এ ছাড়া গত শুক্রবার গভীর রাতে রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ দেবনাথ, কাজল দেবনাথ, পরেশ পাল ও সুজিত পাল এবং বিষুষ্ণপুর গ্রামের নির্মল আচার্য ও অসিত আচার্যের বাড়ির মন্দিরের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এসব মন্দিরে টাকা, পূজার মূল্যবান সামগ্রীসহ প্রায় ছয় লাখ টাকার মালপত্র চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।\হধর্মপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ দেবনাথের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী দেবী জানান, বাহরাইন থেকে আনা একটি কৃষ্ণমূর্তি, একটি লক্ষ্মী নারায়ণের মূর্তিসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালপত্র দেবতা ঘরের তালা ভেঙে নিয়ে যায় চোরেরা।

দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সত্যেন্দ্র কুমার পাল (নান্টু) বলেন, এ রকম ঘটনা আগে ঘটেনি। এটি পরিকল্পিত নাশকতা।

রহিমপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ খান বলেন, 'আমরা ধর্মপুর এলাকায় যে সম্প্রীতি নিয়ে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছি, এ সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।'

কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাশ এক সপ্তাহে ১৫টি দেবমন্দিরে চুরির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, এসব চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।

মন্তব্য করুন