জন্মনিবন্ধন করতে মহাভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীদের। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও পৌরসভার সংশ্নিষ্ট শাখায় দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ হচ্ছে না দিনের পর দিন।

স্মার্টকার্ডের আদলে 'ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি' পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য 'ইউনিক আইডি' (ইউআইডি) প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সংশ্নিষ্ট দপ্তর থেকে চিঠি ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে অনলাইনে জমা দিতে হবে। এ ফরম পূরণ করতেই ঘটছে বিপত্তি। নিজের জন্মনিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধনও করতে হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে। নানান কারণে নামের বানান, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনের প্রয়োজন পড়ছে। দেখাতে হচ্ছে নানান প্রমাণপত্র। এসব প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও 'সার্ভার'জনিত সমস্যার কারণে এ প্রক্রিয়া হচ্ছে আরও দীর্ঘ। এ অবস্থায় মহাভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রস্তুতের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট ফরম সরবরাহ করে সরকার। পরে করোনার কারণে এ কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। সম্প্রতি নতুন করে আরও একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে বলা হয় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য। এ সংক্রান্ত 'সার্ভার' প্রস্তুত না হওয়া এবং 'ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড' না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত কাজ শুরুই করতে পারেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তারপরও ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও পৌরসভার সংশ্নিষ্ট শাখায় নিবন্ধন করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

হবিগঞ্জ জে কে অ্যান্ড এইচ কে হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা ফাইরুজ জানায়, জন্মনিবন্ধনের জন্য কয়েকদিন ধরে তাকে তার বাবার সঙ্গে ঘুরতে হচ্ছে। সার্ভার সমস্যাসহ নানান জটিলতার কারণে নিবন্ধন করতে পারছে না। এদিকে স্কুল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

হবিগঞ্জ শহরের জে কে অ্যান্ড এইচ কে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ইউনিক আইডির জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন। এটা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর আগের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের গরমিল ধরা পড়ছে। এটা সংশোধন করতে গিয়ে তারা হয়তোবা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

বাহুবল উপজেলার মিরপুর ফয়জুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, এক শ্রেণির লোক গুজব ছড়াচ্ছে যে জন্মনিবন্ধন না করলে কিংবা 'ইউনিক আইডি'র তথ্য ফরম পূরণ না করলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না। আসলে বিষয়টি এমন নয়, এটি ভিন্ন বিষয়। এর সঙ্গে পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।

জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন বলেন, 'বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ব্যুরোর চিঠির আলোকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফরম বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করে জমাও দিচ্ছে। তবে আমরা এখনও ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাইনি। যে কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।'

হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম বলেন, 'সহজে জন্মনিবন্ধন করতে পৌর কার্যালয়ে দিকনির্দেশনামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ভোগান্তি কমাতে বাড়ানো হয়েছে জনবল। আমি নিজে বিষয়টি দেখভাল করছি, শৃঙ্খলা রক্ষাসহ দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। তারপরও কোথাও কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

মন্তব্য করুন