পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেল হবিগঞ্জের ৪৪ জন। তাদের মধ্যে নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরাও আছে। কোনো ধরনের ঘুষ ছাড়া সুষ্ঠু পদ্ধতিতে মেধাবীদের বাছাই করা হয়েছে বলেই তারা এ চাকরি পেয়েছে বলে জানিয়েছে। এক্ষেত্রে ফরম পূরণ বাবদ তাদের খরচ হয়েছে সাকুল্যে ১৩০ টাকা।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী। নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৭ ও নারী সাতজন।

মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হওয়া ইমদাদুল ইসলাম সাগর বলেন, 'পুলিশ সম্পর্কে আমার ভুল ধারণা ছিল। রাস্তাঘাটে প্রায়ই মানুষের মুখে শুনতাম পুলিশ ঘুষখোর, টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হয় না। কিন্তু সেই ধারণা এখন আমার পাল্টে গেছে। আমি মাত্র ১৩০ টাকায় মেধা অনুযায়ী চাকরি পেয়েছি।'

একই অবস্থা হবিগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা শাহেদ আলীর। মাত্র ৬ বছর বয়স থেকেই সে শিশু পরিবারের সদস্য। শাহেদ আলী ভাবতেও পারেনি সে পুলিশে নিয়োগ পাবে। সে জানায়, হবিগঞ্জ জেলা পুলিশে স্বচ্ছতার মাধ্যমে মেধাক্রমের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেই তার নাম এসেছে। শাহেদ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশী গ্রামের মৃত আবদুল করিমের ছেলে। তার মা পারুল বেগম বাঁশের ঝুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান।

উল্লেখ্য, মাত্র ৪৪ জন কনস্টেবল পদের বিপরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় হবিগঞ্জ জেলায় শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেয় এক হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে ৩৬৫ জন লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ১০৭ জন। সবশেষে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন