আজ রোববার কুলাউড়ার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন চেয়ারম্যান পদের ৫৬ প্রার্থীসহ সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা। প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন প্রহর গুনছেন ভোটারদের রায়ের। নির্বাচনে বিদ্রোহী ও বিএনপি ঘরানার বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।

২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হন। বাকি ৯ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। চলতি নির্বাচনে প্রবীণ ও নবীন মিশেলে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়েছে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য। বিদ্রোহী আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশ কাটিয়ে কয়টি ইউনিয়নে সরকারদলীয় প্রার্থীরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন, সেটি এখন দেখার বিষয়।

উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী খোরশেদ আলম খান সুইট এবং আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবুল হোসেন খসরু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে বিএনপি ঘরানার ও অন্যান্য দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সুইট বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

ভূকশিমইল ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির স্বতন্ত্র, আওয়ামী লীগের নবীন প্রার্থী মইনুল ইসলাম সোহাগ ও জাতীয় পার্টির আব্দুল আজিজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মইনুল ইসলাম সোহাগকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

ভাটেরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জুবায়ের সিদ্দিকি সেলিম, বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম, কামাল ইবনে শহীদ চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ খান লড়ছেন ভোটের মাঠে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সেলিম ও নজরুলের মধ্যে।

জয়চণ্ডী ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরু স্বতন্ত্র প্রার্থী। আর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সভাপতি আব্দুর রব মাহবুব। দু'জনের মধ্যেই লড়াই হবে হাড্ডাহাডি।

ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী মমদুদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী খান ময়নুল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন এলাইছ ও আকুল মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মমদুদ হোসেন প্রথম দিকে এগিয়ে থাকলেও শেষ সময়ে এসে নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছেন খান ময়নুল হোসেন।

কাদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত জাফর আহমদ গিলমান ও গতবারের ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ছালাম এবং বিএনপি ঘরানার আব্দুল মুহিত বাবলুসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলার সবক'টি ইউনিয়নের মধ্যে এই ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তুমুল। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জাফর আহমদ গিলমান ও হাবিবুর রহমান ছালাম এগিয়ে রয়েছেন। তবে তাদের জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্ট হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মুহিত বাবলু।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছাদ্দিক নোমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার বুবলী, জুবের আহমদ খানসহ ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র নার্গিস আক্তার বুবলী ও জুবের আহমদ খানের মধ্যে মূল লড়াই হবে।

রাউৎগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আকবর আলী সোহাগ ও বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামালসহ ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে আকবর আলী সোহাগ ও আব্দুল জলিল জামালের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

টিলাগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মালিক ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মালিকসহ ৫ জন প্রার্থী। হাজীপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওয়াদুদ বক্স, বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চুসহ ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শরীফপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিনু মিয়া ও বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব আলী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খলিলুর রহমানসহ ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৃথিমপাশায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মন্নাফ, স্বতন্ত্র প্রার্থী নবাব আলী বাকর খান হাসনাইন, আব্দুল লতিফ, জিমিউর রহমান চৌধুরী ফুলসহ ৫ জন। কর্মধায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ রহমান আতিক ও দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মুহিবুল ইসলাম আজাদসহ ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে ৫ জন জুডিশিয়াল ও ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহস্রাধিক সদস্য মাঠে রয়েছেন।

মন্তব্য করুন