তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে নবীগঞ্জে নৌকার চরম ভরাডুবি হয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মাত্র চারটিতে নৌকা প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাকিগুলোর মধ্যে চারটিতে বিদ্রোহী, তিনটিতে স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপি এবং দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী রঙ্গলাল দাশ (ঘোড়া) চার হাজার ২০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের আক্তার মিয়া ছুবা বিজয়ী হয়েছেন। ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিদ্রোহী প্রার্থী নোমান আহমদ (ঘোড়া) বিজয়ী হয়েছেন। দীঘলবাক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলাকে হারিয়ে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ছালিক মিয়া (আনারস)। আউশকান্দি ইউনিয়নে নৌকার মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান দিলাওর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। কুর্শি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদ (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন। করগাঁও ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত নির্মলেন্দু দাশ রানা বিশাল ভোটের ব্যবধানে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। বাউসা ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান শিশু। দেবপাড়া ইউনিয়নে প্রাক্তন চেয়ারম্যান মরহুম জাবেদ আলীর ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ রিয়াজ নাদির সুমন চশমা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রাক্তন মন্ত্রী মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী এবং বর্তমান এমপি দেওয়ান শাহ নওয়াজ মিলাদ গাজীর জন্মস্থানে নৌকার ভরাডুবিতে সমালোচনার ঝড় বইছে। গজনাইপুর ইউনিয়নে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন সদ্য বহিস্কৃত বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী ইমদাদুর রহমান মুকুল (আনারস)। কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরী (আনারস)। পানিউম্‌দা ইউনিয়নে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকার প্রার্থী ইজাজুর রহমান।

মন্তব্য করুন