সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্রমেই বিলীন হচ্ছে মুক্তিরগাঁও-পীরপুর সড়ক। উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ এ সড়কটি দিয়ে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ হেঁটে চলাচল করছে। এতে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।\হঅপরিকল্পিত কাজ ও অনিয়মের কারণেই আড়াই বছর আগে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৫২ লাখ টাকার কাজ জলে গেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। পাউবোর কাজ শেষ হওয়ার বছর না ঘুরতেই একই স্থানে আবারও নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।\হখোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ছাতক উপজেলা সদর থেকে কালারুকা ইউনিয়নের পীরপুর পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয় স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) অধীনে। সড়ক পাকা হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও, হরিষপুর, মিরাপাড়া, শিমুলতলা, নানশ্রী, গৌরীপুর ও পীরপুর এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর, গোফরাপুর ও দুর্গাপুর এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ টেম্পো, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে যাতায়াত করেছেন। এরপর প্রায় ৫ বছর ধরে সুরমার তীরবর্তী এ\হএলাকায় নদীভাঙনে সড়কের বেশ কিছু অংশ বিলীন হওয়ায় এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৪ বছর আগে পানিসম্পদমন্ত্রীর নির্দেশে নদীভাঙন\হএলাকা পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন\হবোর্ডের কর্মকর্তারা। ওই সময়ে সুরমা নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরিপ কাজও করা হয়। এরপর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।\হ২০১৯ সালের ১৪ জুন সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড মুক্তিরগাঁও এলাকায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙনরোধে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করে। কিন্তু শুরুতেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নদীভাঙন কাজে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় সরকারের পুরো ৫২ লাখ টাকা জলে গেছে।\হসরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের ভাঙনে নদী-তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। আরও নদীভাঙনের আশঙ্কায় অজানা আতঙ্কে রয়েছেন অসংখ্য পরিবার। নদী-তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ ফুট দূরবর্তী এলাকায় ভাঙনের প্রভাবে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ নদী-তীরবর্তী অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি।\হভাঙন রক্ষায় স্থানীয় লোকজন নিজেরাই কয়েক লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করে বাঁশের বেড়া ও বালির বস্তা ফেলেছে। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। রাস্তার এক-তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে গিলে নিয়েছে সুরমা।\হ১ নম্বর ওয়ার্ডের নবাগত ইউপি সদস্য সামছু মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে কাজ শুরু করেছিল পাউবো। এটা ঠিক হয়নি। শুকনো মৌসুমে এ কাজ করলে ভালো হতো। এই এলাকায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।\হকালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অদুদ আলম বলেন, নদীভাঙনের কারণে এ এলাকার লোকজন যাতায়াতে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও কবে কাজ হবে, তা নিয়ে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।\হসুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামছুদ্দোহা বলেন, মুক্তিরগাঁও এলাকায় নদীভাঙন রোধে যে কাজ করা হয়েছিল, সেটি জরুরি বিপৎকালীন প্রতিরক্ষা কাজ। ওই কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। এখন ভাঙন রোধে স্থায়ী কাজের জন্য পাউবো সদর দপ্তরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন