মাধবপুরে টানা ৩৮ দিন ধরে বন্ধ থাকা বৈকণ্ঠপুর চা বাগানে কর্মহীন শ্রমিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বাগান ব্যবস্থাপককে মারধরের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ বাগান বন্ধ করে দিলে এ সংকট শুরু হয়।

জানা গেছে, অনুমতি ছাড়া বাগানের জায়গায় দিলীপ কেউট নামের এক শ্রমিকের ঘর নির্মাণ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে বাগান ব্যবস্থাপককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে কর্তৃপক্ষ বাগান বন্ধ ঘোষণা করে। বেকার হয়ে পড়েন চার শতাধিক নিয়মিত শ্রমিক। সমস্যা সমাধানের জন্য মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন, শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিরা একাধিকবার বৈঠক করেও সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি।

বৈণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য বাবুল চৌহান জানান, চা বাগানে কাজ করে একজন শ্রমিক ১১৮ টাকা হাজিরা আর আধা সের আটা দিয়ে সংসার চালান। নিয়মিত শ্রমিকদের বাগানের কাজ ছাড়া অন্য কোথাও কাজের ব্যবস্থা নেই। অনেক গরিব পরিবার দীর্ঘ ৩৮ দিন ধরে বাগানে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। চা শ্রমিকদের বাগানের কাজ ছাড়া বিকল্প আয়ের উৎস ও সঞ্চয় নেই। বিশেষ করে অসুস্থ নারী ও শিশুরা খুব কষ্টে আছে। বাগান বন্ধ থাকায় বাগান পরিচালিত হাসপাতালে শ্রমিকদের চিকিৎসাও বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, যেসব শ্রমিক ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এভাবে বাগান বন্ধ হয়ে থাকলে চা বাগানে প্রায় তিন হাজার লোক চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বেন। তাই তার দাবি, আলোচনার মাধ্যমে বাগান খুলে দেওয়া হোক।

চা বাগানের ব্যবস্থাপক সামসুল ইসলাম বলেন, বাগান খোলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক রয়েছে। বৈকণ্ঠপুর চা বাগান মূলত একটি রুগ্‌ণ বাগান। গত ৪ বছরে এই বাগানে ১০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এ বাগানে এক কেজি চা উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ১৬০ টাকার ওপরে। কিন্তু এক কেজি চা পাতার নিলাম দর ১২০ টাকা। প্রতি বছর কোটি টাকা লোকসানের পরও চা শ্রমিকের রেশন তলব, চিকিৎসা, আবাসন ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিয়মিত রয়েছে। ব্যবস্থাপকের গায়ে হাত তোলায় কর্তৃপক্ষের জন্য এ বাগানের কর্মপরিবেশ এখন নিরাপদ নয়।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, 'বাগানের সমস্যা সমাধানে বৈঠক ডাকা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সমাধান হবে। এ ছাড়া শ্রমিক পরিবারে খাদ্য সংকট থাকলে তালিকা করে তাদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।'

মন্তব্য করুন