ওমিক্রনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই মৌলভীবাজারে শাহ মোস্তফার (র.) মাজার প্রাঙ্গণে রাস্তা বন্ধ করে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ওরস ও মেলা। অন্যদিকে, শহরের সাইফুর রহমান সড়কে ১৫ দিন ধরে চলছে দেড় কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ। তাই এ সড়কেও চলছে না যান। ফলে যাতায়াতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে। খোলা মাঠে সভা-সমাবেশ কিংবা গণজমায়েত করে কোনো অনুষ্ঠানের ব্যাপারেও দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এর পরও শহরের শাহ মোস্তফার (র.) মাজার প্রাঙ্গণে রাস্তার ওপর মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় হয়েছে। রাস্তার ওপর কেনাবেচা চলায় এ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলছে না। অন্যদিকে, শহরের সাইফুর রহমান সড়ক বন্ধ করে চলছে সংস্কার কাজ। ফলে এ রাস্তা দিয়ে চলছে না যানবাহন। এতে শহরের কুসুমবাগ ও বেরিরপাড় এলাকায় এসে আটকা পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ চৌমোহনা, কোর্ট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যেতে এক কিলোমিটার পথ হাঁটতে হচ্ছে। নতুবা শহরের বেজবাড়ি মোড় হয়ে দু-তিন কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ২ জানুয়ারি থেকে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হবে ২৮ জানুয়ারি। এ সময়টুকু নগরবাসীকে একটু কষ্ট করতেই হবে।

অঙ্কন প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কবি মহিদুর রহমান বলেন, একদিকে সংস্কার কাজের জন্য রাস্তা বন্ধ, অন্যদিকে বার্ষিক ওরস উপলক্ষে রাস্তার ওপর দোকান বসিয়ে কেনাবেচা চলায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। মাজার কর্তৃপক্ষ রাস্তার ওপর মেলার আয়োজন না করে বিকল্প কোনো স্থানে করতে পারত।

সৈয়দ শাহ মোস্তফার (র.) মাজারের মোতাওয়াল্লি সৈয়দ খলিলুল্লাহ ছালিক জুনেদ বলেন, ওমিক্রন ঝুঁকির কারণে তিন দিনের বার্ষিক ওরস সীমিত পরিসরে এক দিনে শেষ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান সমকালকে বলেন, সীমিত পরিসরে ওরসের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য মাজার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মেলা আয়োজন করা হলে তা বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য করুন