বাংলাদেশে কৃষিপণ্য রফতানি বাড়াতে চায় ভারত

বিনিয়োগ করে পুনঃরফতানির আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানি বাড়াতে চান ভারতের উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে এসব খাতের ৫০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছে। তারা এ দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রফতানির জন্য চুক্তি করছেন।
এ সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার সোনারগাঁও হোটেলে দু'দিনব্যাপী দুই দেশের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বৈঠক ও পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। কৃষি, হর্টিকালচার ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্প খাতের ওপর পৃথক একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনের আয়োজনও করে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
প্রদর্শনীতে ভারতের মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ূ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের ব্যবসায়ীরা তাদের দেশে উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এনেছেন। আগামীকাল সোমবার ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজার, মৌলভীবাজার ও চকবাজার পরিদর্শন করবে। ভারতের আহমেদাবাদের 'এ ইনোভেটিভ' ফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জায়েশ প্যাটেল সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছেন। তিন মাস আগে তার কোম্পানি ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ফুচকা, চিপস ও ম্যাকারনি উৎপাদনে গেছে। তারা প্রতিদিন ৩০ টন পণ্য উৎপাদন করে ভারতের বাজারে ছাড়ছেন। এখন বাংলাদেশের বাজার ধরতে চান তারা।
তামিলনাড়ূর ভাস্ট এক্সপোর্টার্সের প্রতিনিধি কে নামাসীভায়াম বলেন, তার প্রতিষ্ঠান এ দেশে পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ, গোলমরিচ, জিরাসহ মসলাপণ্য ও ফল রফতানি করতে চায়। এ জন্য ক্রেতা খুঁজছেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের এ আলোচনায় উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়াতে পারে। যৌথ উদ্যোগে কৃষিভিত্তিক ও খাদ্য প্রক্রিজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশের বাণিজ্য বৈষম্য কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, এ দেশে বিরাজমান স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতীয় শিল্প উদ্যোক্তারা নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ দেশে বিনিয়োগ করে শিল্প কারখানায় উৎপাদিত পণ্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পুনঃরফতানির সুযোগ তৈরি হবে।
ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, এ দুই দেশ সীমান্তের কাছাকাছি শিল্প স্থাপন করে বাণিজ্য বাড়াতে পারে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সীমান্তে গড়ে তুলে ভারত থেকে কাঁচামাল ব্যবহার করে সহজে পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে বাণিজ্য বৈষম্য কমে আসবে। তিনি বলেন, বিএসটিআইর মান সনদ দেওয়া ২১টি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানির সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা চাইলে এ দেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন। এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীদের এ দেশে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করে উৎপাদিত পণ্য ভারতে রফতানি করতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, দু'দিনের আলোচনায় উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হবে। ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্সের মহাপরিচালক রজীব সিং বলেন, উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের এখনই উপযুক্ত সময় শিল্প ও বাণিজ্য বাড়ানোর।