টানা ছয় বছর ধারাবাহিক মুনাফার পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি)। বাণিজ্যিক ইউনিটগুলো লাভ করলেও প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় বেশি হওয়ায় ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে সরকারি এই সংস্থাটিকে। সম্প্রতি বিপিসি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে এক কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে বিপিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ছয়টি ছোট ইউনিট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৬টিতে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিপিসির ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) জিয়াউল হক হাওলাদার। এর মধ্যে বিপিসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ইউনিটের সংখ্যা ২৬ এবং অন্য ইউনিটগুলো লিজ ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।
পর্যটন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া বিপিসির তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, করপোরেশনের বাণিজ্যিক ইউনিটগুলো গত অর্থবছরে আয় করেছিল ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এর মধ্যে অবচয়সহ মোট ব্যয় করেছে ৮০ কোটি ৬৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। আর করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় আয় করেছিল ১ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। বিপরীতে অবচয়সহ প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় ২০ কোটি ৩৩৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এ প্রসঙ্গে বিপিসির চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির কোনো মন্তব্য করেননি। সংস্থাটির ব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিপিসির আঞ্চলিক হোটেল-মোটেলগুলোতে গত অর্থবছরে এর আগের বছরের তুলনায় ১২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বেশি বিক্রি হয়েছিল। এর পরও লোকসান হওয়ার কারণ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ সার্বিক খরচ প্রধান কার্যালয় থেকেই মেটাতে হয়। অষ্টম পে স্কেলের পর বেতন-ভাতা বেড়ে যাওয়ায় ৫ কোটি টাকা বেশি খরচ হয়েছে।

মন্তব্য করুন