নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পরিশোধ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বছরে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকার সুফল পেতে পারে। প্রযুক্তিগত লেনদেনের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভিসার সম্প্রতিক এক গবেষণায় ডিজিটাল পেমেন্টের এমন সুফল উঠে এসেছে। ঢাকাসহ বিশ্বের ১০০ শহরের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রভাব নিয়ে এ গবেষণা করা হয়েছে। ভিসার সহযোগিতায় 'ক্যাশলেস সিটিস :রিয়েলাইজিং দ্য বেনিফিটস অব ডিজিটাল পেমেন্টস' শীর্ষক এক গবেষণা করেছে রুবিনি
থটল্যাব। সম্প্রতি ভিসার ঢাকা অফিস এ তথ্য জানায়।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবে। বিশ্বের প্রধান সব শহরে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তৃতিতে বিশ্বের ১০০ শহরে আনুমানিক ৪৭০ বিলিয়ন ডলারের নিট সুফল হবে। এ ছাড়া ডিজিটাল পেমেন্টে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রমসহ জিডিপি, কর্মসংস্থান, আয় ও প্রবৃদ্ধির ওপর। শুধু ঢাকায় এর সুফল পাওয়া যাবে বছরে ১৫০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে ১০ কোটি ডলার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১২০ কোটি ও সরকারি পর্যায়ে ২০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। আগামী ১৫ বছরে এর প্রভাবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মসংস্থান, শূন্য দশমিক ১ শতাংশ মজুরি ও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ উৎপাদন বাড়বে। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার টিআর রামচন্দ্রন বলেন, নগদ অর্থবিহীন লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে গড়ে ১৫০ কোটি ডলারের সুফল পেতে পারে ঢাকা, যা আনুমানিকভাবে এ শহরের গড় জিডিপির ৩ শতাংশের সমান। রুবিনি থটল্যাবের প্রধান লু শেলি বলেন, নগরবাসীর কেনাকাটা, ভ্রমণ ও বসবাস নিয়ে স্ট্মার্টফোন, পরিধেয় ডিভাইস থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমনকি চালকবিহীন গাড়িতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিস্তৃত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন