বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) নীতিমালাকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে। এতে পিপিপির আওতায় বাস্তবায়িত সব প্রকল্পে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মালিকানা নিশ্চিত করা হবে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে পিপিপির আওতায় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পরিচালনা করেন উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ওই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংশ্নিষ্ট প্রকল্পের সব আয়-ব্যয় দেখভাল করেন তারা। এরপর তা সরকারের হাতে চলে যায়। ফলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর প্রকল্পের আয় বা লভ্যাংশ থেকে কোনো ধরনের সুবিধা পান না উদ্যোক্তারা। সরকার মনে করছে, প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের মালিকানা নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগকারী বা উদ্যোক্তারা আরও উৎসাহিত হবেন। এ জন্য বর্তমান ভিজিএফ নীতিমালা-২০১২ সংশোধনের মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে সরকার।
২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে পিপিপির নতুন ধারণা প্রবর্তন করে সবাইকে চমক দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মুহিতের ওই ঘোষণায় বেসরকারি খাতে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু আট বছর পরও পিপিপির কার্যক্রমে গতি আসেনি। ফলে এটি নিয়ে হতাশ দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা।
সূত্র জানায়, পিপিপি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে সেটি কার্যকর করা হবে। যোগাযোগ করা হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পিপিপি ইউনিটের প্রধান যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, খসড়া নীতিমালায় পিপিপির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি উদ্যোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আরও বেশি উৎসাহিত হন।
সূত্র জানায়, সংশোধিত নীতিমালায় উদ্যোক্তাদের মালিকানার সুযোগ রাখা হচ্ছে। সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে মুনাফা কীভাবে বণ্টন হবে, লভ্যাংশের হার নির্ধারণ, কে কতটুকু মূলধন জোগান দেবে ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছেন পিপিপি ইউনিটের কর্মকর্তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে পিপিপি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি মূলধন জোগান দেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে, প্রকল্পটিকে লাভজনক করতে ভায়াবেলিটি গ্যাফ ফান্ড বা ভিজিএফ তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেয় সরকার। বর্তমান নিয়মে মোট প্রকল্প ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেয় সরকার। অর্থাৎ, কোনো প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০০ টাকা হলে সরকার ৩০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি হিসেবে জোগান দেয়। অবশিষ্ট ৭০ টাকা দেয় উদ্যোক্তা। সংশোধিত নীতিমালায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে। সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ হতে পারে বলে জানা গেছে।
যোগাযোগ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন পিপিপি অফিস কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, বিল্ড অপারেট ট্রান্সফার বা বিওটি পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তেমন নেই। সরকার পিপিপিকে আরও গতিশীল করতে চায়। এ জন্য প্রকল্পে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মালিকানা নিশ্চিত করে সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে। এটা করা হলে পিপিপি আরও গতিশীল হবে।
পিপিপির অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৪৮ প্রকল্প পিপিপির আওতায় আনা হলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। পিপিপির আওতায় প্রথমবারের মতো উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নানা জটিলতা অবসানের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে অবকাঠামো খাতের বড় এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাছ পেয়েছে থাইল্যান্ডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইটাল-থাই। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার জোগান দিয়েছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

মন্তব্য করুন