নগদ টাকা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ধরনা

বিভিন্ন ব্যাংক এখন রেপোর মাধ্যমে ধার নিচ্ছে

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ওবায়দুল্লাহ রনি

চলতি বছরের শুরু থেকে নগদ টাকার টানাটানির কথা বলা হলেও ধারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেনি কোনো ব্যাংক। দীর্ঘ সময় পর ঈদের দু'দিন আগ থেকে শুরু করে এখন প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যাংক রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) বিপরীতে ধারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছে। বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদে স্বল্প সময়ের জন্য এ ধার নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এর আগে এ পদ্ধতিতে সর্বশেষ গত ২১ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংককে ৯৬ কোটি টাকা ধার দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঋণের সুদহার কমানোর জন্য ব্যাংক মালিকদের দাবির মুখে রেপোর সুদ ও সিআরআর কমানোসহ নানা সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৫ এপ্রিল থেকে রেপোর সুদহার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। আর রিভার্স রেপোর সুদহার আগের মতোই ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত আছে।

রেপোর সুদহার কমানোর পর প্রথম ধার দেওয়া হয় ঈদের আগে গত ১৯ আগস্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ওই দিন ৬টি ব্যাংক একদিনের জন্য ৭৫৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ধার নেয়। এর মধ্যে তিনটি ব্যাংককে ৬ শতাংশ সুদে দেওয়া হয় ২৮০ কোটি টাকা। আর তারল্য সহায়তা হিসেবে ৪৭৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা দেওয়া হয় ৯ শতাংশ সুদে। এরপর দিন ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস ২০ আগস্ট ৬ শতাংশ সুদে ৬ দিন মেয়াদে ১৪টি ব্যাংক নেয় ৩ হাজার ৩৮০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ঈদের পর প্রথম কর্মদিবস ২৬ আগস্ট চারটি ব্যাংক আবার একদিনের জন্য ১ হাজার ৫৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিয়েছে। এভাবে প্রতিদিনই কোনো না ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ. খান সমকালকে বলেন, স্বল্প মেয়াদি সংকট মেটাতে একেক ব্যাংক একেক রকম পদ্ধতি অবলম্বন করছে। যেসব ব্যাংক পর্যাপ্ত আমানত না পাওয়ায় কিংবা ঋণ বেশি দেওয়ায় সাময়িক তারল্য সংকটে পড়েছে, তাদের অনেকে রেপো নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বাজারে তারল্য সংকটের কারণে রেপোতে ধার নেওয়ার চাহিদা বেড়েছে বলা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা জানান, যেসব ব্যাংকের হাতে বাড়তি টাকা রয়েছে, তারা আগাম সতর্কতার কারণে আন্তঃব্যাংক ধার দেওয়ার পরিমাণ কমিয়েছে। যে কারণে রেপোতে ধরনা দিচ্ছে কিছু ব্যাংক। সাধারণভাবে কোনো ব্যাংক নগদ টাকার টানাটানিতে থাকলে অন্য ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নেয়। একসময় ব্যাপকহারে রেপো নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কলমানির সুদ কম থাকায় ধারের জন্য ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তেমন আসে না। বর্তমানে কলমানিতে ৫ শতাংশের কম সুদে লেনদেন হচ্ছে। ঈদের আগেও কলমানির সুদহার ছিল ৫ শতাংশের কম।

এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, এডিআর বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যাংক কলমানিতে ধার দিতে না পারায় হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করছে। এ ছাড়া সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে টাকা নিতে এক মাসের কম মেয়াদি হলে ৬ শতাংশে সুদ দিতে হচ্ছে। এর বেশি মেয়াদে ৭-৮ শতাংশ সুদ নিচ্ছে।