মুনাফা বেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

অর্থবছর ২০১৭-১৮

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা আয় করেছে। বিপুল এ আয়ে বৈদেশিক ও স্থানীয় মুদ্রার সুদ, কমিশন এবং অন্যান্য আয় রয়েছে। রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার পুনর্মূল্যায়নজনিত লাভও। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক ও স্থানীয় মুদ্রার আর্থিক দায় এবং অন্যান্য খাতে চার হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ফলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা, যা আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় দুই হাজার ১৭৮ কোটি টাকা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রার সুদ, কমিশন ও অন্যান্য খাতে মোট পাঁচ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার সুদ ও কমিশন খাতে আয় হয়েছে চার হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে আয় ছিল দুই হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্মূল্যায়নজনিত কারণে লাভ হয়েছে আট হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকা উসুল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাকি আট হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা উসুল করা না হলেও হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্মূল্যায়নের অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে, সেগুলো স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হলে কেনা দামের তুলনায় আট হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা বেশি পাওয়া যাবে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যয়ের মধ্যে দুই হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে সাধারণ ও প্রশাসনিক খাতে, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ওই সময় প্রশাসনিক ও সাধারণ খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যয় ছিল এক হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীদের সুবিধা বাড়ানো প্রশাসনিক খাতের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

আয় থেকে ব্যয় করার পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। তবে শুধু বৈদেশিক মুদ্রার পুনর্মূল্যায়নজনিত মুনাফা হয়েছে আট হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এ অংশ বাদ দিলে মুনাফা দাঁড়ায় ৭৯২ কোটি টাকা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৫৪২ কোটি টাকা।