রফতানির পাশাপাশি ডেনিমে বিনিয়োগও বাড়ছে

সেমিনারে উদ্যোক্তারা

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

কয়েক বছরে ডেনিম পোশাকের রফতানি বেড়েছে বড় অঙ্কে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ডেনিম রফতানিতে বাংলাদেশ এখন প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। দেশেই ডেনিম উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় রফতানিতে লিড টাইম (রফতানি আদেশ পাওয়ার পর ক্রেতাদের হাতে পণ্য পৌঁছানোর সময়) কম লাগছে। ডেনিমের রফতানি বৃদ্ধির বড় কারণ এটি। এ খাতে বিনিয়োগও বাড়ছে। ফলে আগামীতে ডেনিমের আরও বড় সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা।

'প্রযুক্তি সহায়তায় ডেনিমের বহুমুখীকরণ' শীর্ষক এক সেমিনারে আশা প্রকাশ করেছেন বক্তারা। গত শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইস্টম্যান টেকনোক্রাফট এবং অ্যাপারেল সোর্স যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ডেনিম এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন, এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড গার্মেন্টস ওয়াশিং ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সফিকুর রহমান প্রমুখ।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ডেনিম খাতে শক্তিশালী অবস্থান অর্জনের পেছনে মূল কারণ, ডেনিম টেক্সটাইল খাতে আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ। এ ছাড়া আমদানিবিকল্প ডেনিম কাপড় দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় রফতানিতে লিড টাইম কম লাগছে। ডেনিম কাপড় আমদানিতে যে সময় ব্যয় হতো তা এখন সাশ্রয় হচ্ছে। তার মতে, এর বাইরে সৃজনশীল অনেক উদ্যোক্তা এসেছেন। পণ্যে বৈচিত্র্য এসেছে। ডেনিমে মূল্য সংযোজনও একটা বড় কারণ। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের অন্য যে কোনো পণ্যের তুলনায় ডেনিম রফতানি বাড়ছে বেশি হারে।

মোহাম্মদ নাছির বলেন, কয়েক বছরে ডেনিম রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসছে। দেশে বর্তমানে ৩২টি ডেনিম মিল রয়েছে, যাদের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মিটার। বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ডেনিম পোশাক তৈরির কারখানার সংখ্যা ৪৮০টি। এসব কারখানায় অধিকাংশই বিশ্বমানের এবং আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ। ডেনিম উৎপাদনে দক্ষতা বেড়েছে। বেসিক ব্লু ডেনিম থেকে এখন উচ্চমূল্যের ডেনিম পণ্য তৈরি ও রফতানি হচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডেনিম এমন একটি পণ্য যা নারী-পুরুষ, বর্ণ, ধর্ম, ছোট-বড়, শীত, গ্রীষ্ফ্ম, বর্ষা যে কোনো স্থানে এবং যে কোনো উপলক্ষে ব্যবহার করা যায়। সারা বিশ্বে ডেনিমের দ্রুত প্রসার ঘটছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ সম্ভাবনা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।