কোটি টাকা জয়ী ১০ স্টার্টআপ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্প দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করে 'স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ' শীর্ষক প্রতিযোগিতা। এতে প্রায় আড়াই হাজার স্টার্টআপ অংশ নেয়। এখান থেকে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত বিজয়ী ১০ স্টার্টআপকে দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা করে 'বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট ২০১৯'

হতৌহিদুল ইসলাম তুষার

শিক্ষার্থীদের ১০ ব্যবসায়িক উদ্যোগ পেল বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট (বিগ)। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে সেরা ১০ স্টার্টআপকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। 'আমার উদ্ভাবন, আমার স্বপ্ন' স্লোগানে দ্বিতীয় বারের মতো শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা 'স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ'। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০১৯-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী স্টার্টআপের প্রতিটিকে ১০ লাখ টাকার 'বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট' এবং ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

প্রায় ২৫০০ স্টার্টআপ তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রাথমিকভাবে দেশের ২৫টি ভেন্যু থেকে ৭৫টি স্টার্টআপ বাছাই করা হয়। নির্বাচিত স্টার্টআপ নিয়ে সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনের বুটক্যাম্প। যেখানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। জাতীয় স্টার্টআপ ক্যাম্প থেকে প্রাপ্ত সেরা ৩০ স্টার্টআপকে নিয়ে শুরু হয় চূড়ান্ত আয়োজন। গত ১৬ অক্টোবর চূড়ান্ত পিচিং অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অভিজ্ঞ বিচারক ও আইডিয়া প্রকল্পের বাছাই কমিটি চূড়ান্ত বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করে। বাছাই করা হয় সেরা দশ উদ্যোগ। এবারই প্রথমবারের মতো 'বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট' দেওয়া হলো। প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বাকি ২০ স্টার্টআপ আইডিয়া প্রকল্প থেকে গ্রুমিং ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। এরপর যোগ্য স্টার্টআপদের অনুদান প্রদান করবে আইডিয়া প্রকল্প।

প্রথমবারের মতো 'বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট' বিজয়ী স্টার্টআপগুলো হচ্ছে- ব্ল্যাকবোর্ড, কগনিশন এআই, ক্রস রোড ইনিশিয়েটিভ, ডিজিটং, এডুবট, ইলেকট্রিক স্কেটেবল অ্যান্ড ওয়াকেবল সু, অবসর, ভিশন আইটি, ওয়ার্ল্ড এক্সজাম্পল ও ঝুপরি ডটকম।

ব্ল্যাকবোর্ড

দেশে মেধাবী তারুণ্যের অভাব নেই। তবে যথাযথ সুযোগের অভাবে আমরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছি না। ফলে আমরা অনেক সৃজনশীল পেশাদার, শিল্পীদের হারিয়ে ফেলি। এ সমস্যাটি সমাধান করবে 'ব্ল্যাকবোর্ড'। তারা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম এনেছে, যেখানে তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাবানরা সংযুক্ত হতে পারে এবং তা প্রদর্শন করতে পারে। প্ল্যাটফর্মটি সেই শিল্পীদের এবং তাদের সৃজনশীল কাজের প্রচার করবে। এমনটাই জানান ব্ল্যাকবোর্ড উদ্যোক্তা মাহাবুব হাসান তাবিব। তিনি এরই মধ্যে 'গলিবয়' খ্যাত রানাকে যুক্ত করেছেন প্ল্যাটফর্মটিতে।

কগনিশন এআই

চর্মরোগীদের দারুণ একটি সমাধান নিয়ে এসেছে কগনিশন ডট এআই। তাদের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রোগীকে ডাক্তার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে। এটি ত্বকের রোগ শনাক্ত করতে ইমেজ প্রসেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। ত্বকের রোগে ভুগছেন এমন লোকদের জন্য এটি দুর্দান্ত সমাধান হবে। এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে রোগী অল্প সময়ের মধ্যে ভালো পরিষেবা পাবেন। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের রোগ বেশি দেখা যায়, কিন্তু ভালো চিকিৎসকের অভাবে সমাধানের পথ খুঁজে পান না অনেকে। তাদের জন্য উপযোগী একটি সমাধান হবে কগনিশন এআই।

ক্রস রোড ইনিশিয়েটিভ

যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান তাদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'ক্রস রোড ইনিশিয়েটিভ'। এটি উচ্চ স্তরের শিক্ষার জন্য মেন্টরশিপ পরিষেবা দেবে। প্ল্যাটফর্মটি যারা হার্ভার্ড, এমআইটি বা যে কোনো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আশা করেন তাদের জন্য। তারা অত্যন্ত কম মূল্যে বাংলাদেশের যে কোনো শিক্ষার্থীকে বিদেশি বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র উদ্যোক্তা তামিয়া তানজিন তিসা বলেন, আমাদের দেশ থেকে অনেকেই বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। দেশের বিভিন্ন নামিদামি এজেন্সি থেকে তারা ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন। কারণ, তারা নিজেরাও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আমরা সরাসরি তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে দিই।

ডিজিটং

ডিজিটং দেশের চা-কফি শিল্পের জন্য একটি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। আমরা বিদেশে দেখেছি, কোনো গ্রাহক টাকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কফি মেশিন থেকে কফি তৈরি হয়ে বের

বাকি অংশ পৃষ্ঠা ২



হয়ে আসে। ডিজিটিং এমনই একটি মোবাইল অ্যাপ বের করেছে, যার মাধ্যমে ক্যাশ টাকা ছাড়াই কফি নিতে পারবে। উদ্যোক্তা তানজিম হাসান ফাহিম জানান, গ্রাহক নিজের অ্যাপের মাধ্যমে মেশিনে পেমেন্ট করলেই নিতে পারবেন কফি। ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় কিছু করতে চাই। একটি সুপারশপ বানাতে চাই, যেটি সম্পূর্ণ অটোমেটেড হবে।

এডুবট

এডুবট হলো অগমেন্টেড রিয়েলিটি ভিত্তিক শিক্ষামূলক রোবট, যা শিশুদের বাংলায় শেখাতে পারে। এটি বাংলায় কথা বলতে পারে। এটি যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। যেসব উত্তর জানে না তা গুগল সার্চ করে বলতে পারে। এটি স্বরবর্ণ, ছড়া, গল্প, অঙ্ক ইত্যাদি বলতে পারে। এই রোবট নাচতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর জন্য এটি সত্যি খুব চমৎকার আইডিয়া। প্রাথমিক লেভেলের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে। এর ব্যবসায়িক মডেল হলো বিটুবি ও বিটুসি।

ইলেকট্রিক জুতা

ইলেকট্রিক স্কেটেবল অ্যান্ড ওয়াকেবল শু এমন এক ধরনের জুতা যাতে একই সঙ্গে স্কেটিং করার পাশাপাশি হাঁটাও যায়। এটি খুবই সাধারণ একটি প্রযুক্তি, যা হাঁটা ও স্কেটিংয়ের অভিজ্ঞতা কম খরচে দিতে পারবে। এটি গ্রাহকদের জন্য অনেক সুবিধাজনক। এটি একবার চার্জ করলে প্রায় ১৫ কি.মি. পর্যন্ত চালানো যায়। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির মাধ্যমে তৈরি এ জুতার ওজনও কম।

অবসর

ক্যাম্পাস এবং কমিউনিটি ভিত্তিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম 'অবসর'। এখান থেকে যে কেউ বই কিনতে এবং বিক্রি করতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি ২০১৮ সাল থেকে কাজ করছে। এরই মধ্যে এটি বিভিন্ন ইভেন্টে পার্টনারশিপের মাধ্যমে এবং এফ-কমার্সের মাধ্যমে এক লক্ষাধিক লোকের কাছে পৌঁছেছে। এটি এরই মধ্যে এক হাজার ৫০০-এর বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়েছে। এটি বই এবং এর আনুষঙ্গিক পণ্য বিক্রি করে। এটি ক্যাম্পাসভিত্তিক কমিউনিটির মাধ্যমে নতুন এবং ব্যবহূত বই বিক্রি করে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এটি কমিউনিটির মাধ্যমে বই বিক্রি করে, যা কম খরচে একই দিনে ডেলিভারি করতে পারে।

ভিশন আইটি

যারা চোখে দেখতে পান না তাদের জন্য একটি বিশেষ সমাধান এনেছে ভিশন আইটি। অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য একটি স্মার্ট স্টিক এনেছে তারা, যার মাধ্যমে অন্ধ ব্যক্তিরা সহজে হাঁটতে ও চলাচল করতে পারবে। এটি ক্যামেরার মাধ্যমে ইনপুট এবং ডিসট্যান্স ইনফরমেশন প্রসেস করবে এবং একই সঙ্গে সিন ও ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে স্পিকার ব্যবহার করে পড়তে পারে। এটা অন্ধদের জন্য চোখের মতো কাজ করে।

ওয়ার্ল্ড ইগজাম্পল

ওয়ার্ল্ড ইগজাম্পল মূলত বিদ্যুতের ওপর কাজ করে। এটি নন-কানেক্ট ইলেকট্রিক টেস্টার বাজারে এনেছে। এটি বৈদ্যুতিক শক কমানো এবং মানুষের জীবনের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারবে। এটি ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের দরকার নেই। এটি কোনো স্পর্শ ছাড়াই বৈদ্যুতিক তার পরীক্ষা করতে বৈদ্যুতিক চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে। এটির ফ্রিকোয়েন্সি সীমা ২ থেকে ৫ সে.মি.। এরই মধ্যে পণ্যটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এর স্থায়িত্ব এক বছর। এর টার্গেট মার্কেট ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ।

ঝুপড়ি ডটকম

দেশের প্রথম ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল পণ্যবিষয়ক সার্চ ইঞ্জিন 'ঝুপড়ি ডটকম'। গ্রাহকরা প্ল্যাটফর্মের প্রায় ১০ হাজার পণ্য থেকে সেরা পণ্যগুলো পেতে পারেন। এটিতে কয়েকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশগুলোর একটি হলো ভার্চুয়াল ট্রায়াল রুম। এটি ডেলিভারি সেবার মাধ্যমে এবং ফ্যাশন হাউসের বিজ্ঞাপন ও পণ্য হোস্টিং থেকেও উপার্জন করবে। এটি একাধিক ব্র্যান্ডের ডাটা তুলনা এবং বিশ্নেষণের বিশেষ সিস্টেম। এই প্ল্যাটফর্মে অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। হ