সঙ্গী হেডফোন

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

আসাদুজ্জামান

সেলফোন, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ-কম্পিউটারে একান্তে কলিং, মিউজিক ও ভিডিও উপভোগে অন্যতম অনুষঙ্গ হেডফোন। শুধু কি তাই, ভিডিও গেমসেও ডিভাইসটি অপরিহার্য। নানা নামে নানা ফিচারে মেলে শব্দের মূর্ছনায় হারিয়ে যেতে তারুণ্যের পছন্দের হেডফোন

সেলফোন-ট্যাব কিংবা কম্পিউটার-ল্যাপটপে বাইরের শব্দ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে অন্যকে বিরক্ত না করে মিউজিক-ভিডিও উপভোগে কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে কথোপকথনে অন্যতম অনুষঙ্গ হেডফোন। হেডফোনের ব্যবহার গান শোনা থেকে শুরু করে গেম খেলা পর্যন্ত সব অডিও-ভিডিওর জন্য সহায়ক। আশপাশের বিরক্তিকর শব্দ থাকার পরেও যে কোনো মিউজিক, কথোপকথন তথা সাউন্ড ঠিকভাবে শোনার অনন্য মাধ্যম এটি। বাজারে নানা প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের রকমারি হেডফোন পাওয়া যায়। কোনোটি তারযুক্ত, আবার কোনোটি তারবিহীন। কার্যকারিতা, আকার কিংবা দামেও রয়েছে ভিন্নতা। অভিজাত ব্র্যান্ড আইফোনসহ স্যামসাং, হুয়াওয়ের মতো শীর্ষ অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতাদের রয়েছে ইয়ারবাড নামে নান্দনিক হেডফোন। খুব হালকা, তারবিহীন আবার শব্দের পরিপূর্ণ মূর্ছনা পেতে অদ্বিতীয় এ খুদে হেডফোনগুলো। তবে বেশিরভাগ ফোনের সঙ্গে বিনামূল্যে ইয়ারবাড পাওয়া যায়, যা খুবই কম দামি এবং কোয়ালিটিও ভালো নয়। এসব হেডফোন ব্যবহারে অনেক সময় মাথাব্যথাসহ কান ও মস্তিস্কের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে হেডফোনকে যদি সঙ্গী করতে হয়, তবে কোয়ালিটি পণ্য বেছে নিন। মিউজিকপ্রিয় হলে ভালোমানের ইয়ারবাড বা হেডফোন আপনাকে দেবে আসল মিউজিক উপভোগের স্বাদ।

রকমারি হেডফোন

হেডফোন গান শোনা ছাড়াও কলসেন্টার, এডিটিং, লাইভ চ্যাটিং, গেম খেলা, কথা বলাসহ নানা কাজে ব্যবহার হয়। বর্তমানে অনেক ধরনের হেডফোন বাজারে পাওয়া যায়। কোনটা কিনবেন তা আপনাকে আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হেডফোনে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ফিচার। ইন এয়ার ও ওভার এয়ার, নয়েজ ক্যান্সেলিং, ব্লুটুথ হেডফোন থেকে আপনার সুবিধা মতো বেছে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় হেডফোন।

নজর দিন কোয়ালিটিতে

হাজারো হেডফোনের ভিড়ে সঠিক ও ভালো হেডফোন কেনা আসলেই কঠিন। ফিচার, রং, আকার, ধরনসহ দামের ভিন্নতার জন্য হেডফোন কেনা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। অন্যতম একটি বাস্তব কারণ হলো দাম। একটা ভালো ব্র্যান্ড বা ভালো মানের হেডফোনের দাম অনেক ক্ষেত্রে একটি ল্যাপটপ ও পিসির সমপরিমাণ হয়ে থাকে। ফলে ক্রেতাকে অনেক দিক বিবেচনা করে কিনতে হয় পছন্দের পণ্যটি। ভালোমানের হেডফোন দীর্ঘদিন ভালোমানের সেবা দিয়ে থাকে।

নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন

শব্দময় পরিবেশে কোনো কিছু শুনতে চারপাশের শোরগোল কমাতে কী করবেন? নিশ্চয়ই আপনার ফোনের ভলিউম বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু এতে আপনার কানের ক্ষতি হতে পারে। এজন্য আপনার প্রয়োজন একটি নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন, যাতে আপনি অনেক শোরগোলের মধ্যেও খুব কম ভলিউমে শুনতে পারবেন। অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোনে ছোট এক ধরনের এয়ারকাপ ব্যবহার করা হয়, যা বাইরের শোরগোল পরিমাপ করে তা বাতিল করতে সক্ষম। ফলে কম ভলিউমেও ভালো সাউন্ড পাওয়া সম্ভব হয়। শব্দ বাতিল না করেও ওভারহেড হেডফোনগুলো সাধারণত শব্দ প্রতিরোধী ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে একান্তে মিউজিক শোনার জন্য অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন অত্যন্ত কার্যকর। আপনি যদি লম্বা সময় ধরে হেডফোন ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এই ধরনের হেডফোন ব্যবহার আপনার জন্য উপযুক্ত। পাশাপাশি যারা ভিডিও বা অডিও নিয়ে কাজ করে থাকেন, তাদের জন্যও এই ধরনের হেডফোন অধিক কার্যকর।

হেডফোন নাকি ইয়ারফোন 

ইন ইয়ার ও ওভার ইয়ার হেডফোনের আকার, ধরন ও ডিজাইনের পার্থক্য থাকলেও উভয়ের কাজ একই। ঐতিহ্যগতভাবে হেডফোনের ব্যবহার লক্ষণীয়। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষে উভয়ের কর্মদক্ষতায় যুক্ত হয়েছে নানান ফিচার। হেডফোন আকারে বড় হওয়ায় পারিপার্শ্বিক শব্দ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। ফলে অনেকেই এটিকে বেশি আরামদায়ক, সহজ ও কার্যকর বলে মনে করেন। অন্যদিকে ইয়ারফোনের আকার ছোট, হালকা ও সহজে বহনযোগ্য। যাত্রাপথে কিংবা জিমে এটি সহজেই ব্যবহার করা যায়। ফলে এয়ারফোনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া ইন ইয়ার হেডফোনের সাউন্ড ডাইসগুলো আপনার কানের ওপর থাকে। তাই লম্বা সময় ধরে ব্যবহার করলে আপনার কানে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যদিও অনেকে এই হেডফোনগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করেন। আর ওভার ইয়ার হেডফোনগুলোর সাউন্ড ডাইস পুরো কান ঢেকে ফেলে। তাই বাইরের শব্দ প্রভাবিত করতে পারে না। আপনার পছন্দমতো আপনি যে কোনো একটি কিংবা দুটোই ব্যবহার করতে পারেন।

ব্লুটুথ হেডফোন

হেডফোনের জগতে ব্লুটুথ হেডফোন অনন্য এক সংযোজন। হেডফোন ব্যবহারে স্বাধীনতার স্বাদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্লুটুথ। মোবাইল, ট্যাব, ডেস্কটপ, ল্যাপটপসহ নানান ডিভাইসের সঙ্গে ব্লুটুথ হেডফোন সংযুক্ত করে খুব সহজেই নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে ব্যবহারকারী শব্দ শুনতে সক্ষম হন। তবে হেডফোনগুলো তারবিহীন হওয়ায় এ ব্যাটারি লাগানো থাকে। ফলে ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যাটারির চার্জ, ওজন ও আকারের ভিন্নতা লক্ষণীয়। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, স্টেরিও স্পিকার, টেলিভিশন, গেমিং কনসোলসহ নানা ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করে অডিও সংকেত স্থানান্তর করে ব্লুটুথ ইয়ারফোন ও হেডফোন। জিমে ওয়ার্কআউট, কলসেন্টার কিংবা গেমিং যেখানেই হোক তারবিহীন এই প্রযুক্তি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কেনার আগে জানা দরকার

হেডফোন কেনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। হেডফোনটি দেখতে ভালো কি-না? ভালো ব্র্যান্ডের কি-না, প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম কি-না, দামটা বাজেটের মধ্যে আছে কি-না? কিন্তু এই চারটি ব্যাপারই একটি হেডফোনকে বাছাই করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই সঠিক হেডফোন কেনার জন্য হেডফোন বাছাইয়ের সময় ফিচার, আকার-আকৃতি, এয়ারবাড, ধরনসহ আরও কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। হেডফোন কেনার সময় ইমপেডেন্স, এসপিএল, এইচজেড এবং ড্রাইভারসহ সেটার গায়ে লেখা উল্লিখিত তথ্যাবলি ভালোভাবে পড়ুন। কেনার সময় খেয়াল করুন যাতে হেডফোনের ইমপেডেন্স ও ড্রাইভারস শক্তিশালী হয়। সেই সঙ্গে এসপিএল যেন মাঝারি মাত্রার এবং এইচজেড যেন আপনার পছন্দের গানের উপযোগী হয়।এয়ারবাডটি লক্ষ্য করুন। আমাদের কান যথেষ্ট সংবেদনশীল। ফলে কানকে আঘাত করার জন্য একটি পল্গাস্টিকের হেডফোনই যথেষ্ট। তাই নিম্নমানের পল্গাস্টিক জাতীয় এয়ারবাড এড়িয়ে রাবার বা ফোমের আস্তরযুক্ত এয়ারবাড বেছে নিন।

কীভাবে কিনবেন, কোথায় কিনবেন

রাজাধানীর আগারগাঁওয়ে আইডিবি ভবন, বসুন্ধরায় যমুনা ফিউচার পার্ক, এলিফ্যান্ট রোডে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার, কারওয়ান বাজারে বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, হাতিরপুলে ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালিব প্লাজাসহ বিভিন্ন শোরুম ও দোকানে বিভিন্ন মানের ও দামের হেডফোন পাওয়া যায়। আপনি চাইলে দারাজ, আজকের ডিল, প্রিয়শপ, ইভ্যালি, স্টারটেক, স্মার্ট টেকনোলজিস, রায়ান্স প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ঘেঁটে ছবি ও রিভিউ দেখে পছন্দমতো অর্ডার করতে পারেন। অ্যামাজন, আলিবাবার মতো বিশ্বখ্যাত অনলাইন শপেও আপনি আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডগুলোর হেডফোন অর্ডার করতে পারেন। চলতি বছর বিশ্বে পছন্দে বেস্ট ১০টি হেডফোনের দাম ১৪৭ থেকে ৮৪৯ ডলারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দেশে মান অনুযায়ী মাত্র ৮০ টাকা থেকে ১০ হাজারেরও বেশি মূল্যের হেডফোন পাওয়া যাচ্ছে। হ