দেশীয় সফটওয়্যারে ভ্যাট সমাধান

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৯      

৫ কোটি টাকা বা তার বেশি টার্নওভার হলে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বা লেনদেন তথ্য এনবিআর অনুমোদিত সফটওয়্যারে সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ লক্ষ্যে ১১টি সফটওয়্যার কোম্পানি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে এনবিআর। বেসিস আয়োজিত আসন্ন সফট এক্সপোতে এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে ভ্যাট সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো। লিখেছেন

হাসান জাকির


যে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের লেনদেন ও টার্নওভারের তথ্য এতদিন ইচ্ছামতো সংরক্ষণ করলেও এখন তা নিয়ন্ত্রণে আনছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বছরে ৫ কোটি টাকা বা তার বেশি টার্নওভার হলে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বা লেনদেন তথ্য এনবিআর অনুমোদিত সফটওয়্যার বা কম্পিউটার সিস্টেমে সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ন্যায্য ভ্যাট আদায় সফটওয়্যারভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে এনবিআর।

মূলত অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা এনবিআরকে ঠিকমতো পরিশোধ করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বুক রেজিস্টার বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করায় তা নিরীক্ষা করে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। কিছু প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) কিংবা নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও তার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব কারণেই নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করছে এনবিআর। আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ে ১১টি কোম্পানির ভ্যাট সফটওয়্যারকে অনুমোদন দিয়েছে এনবিআর। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- ইউওয়াই সিস্টেমস, ইনোভিয়া টেকনোলজিস, ধ্রুপদি টেকনো কনসোর্টিয়াম, ডিভাইন আইটি, সিম্ম্ফনি সফটটেক, বেস্ট বিজনেস বন্ড, সিএসএল সফটওয়্যার রিসোর্সেস, এলাইড ইনফরমেশন টেকনোলজি, যুবসফট ইনফরমেশন সিস্টেমস, মিডিয়া সফট, ইউনিসফট সিস্টেমস। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের এটা দারুণ উদ্যোগ। এতে একই সঙ্গে দু'ধরনের সুফল পাওয়া যাবে। দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি ভ্যাটের ক্ষেত্রে যে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে, সেটি রোধ করা সম্ভব হবে। এতে সরকার আর্থিকভাবে আরও সক্ষম হয়ে উঠবে। ফারহানা এ রহমান আরও বলেন, আমাদের ভ্যাট সফটওয়্যারে পাঁচটি ভিন্ন হারে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট গণনার ব্যবস্থা থাকবে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চালানোর জন্য ওয়াইফাই সংযোগ বা ব্রডব্যান্ড সংযোগ থাকবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা বিবেচনায় নিয়ে সফটওয়্যারে অতিরিক্ত ব্যাটারির পাশাপাশি উপযুক্ত সিম সংযুক্ত করা হবে। সফটওয়্যার থেকে পণ্য ও সেবার বিপরীতে গ্রাহকদের যে চালান দেওয়া হবে, তাতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা; বিআইএন নম্বর; তারিখ ও সময়; ক্যাশিয়ারের নম্বর ও কাউন্টার নম্বর; ফিসক্যাল ডিভাইস ও মেমোরি নম্বর; পণ্যের পরিমাণ, মূল্য, ভ্যাটের হার ও পরিমাণ, ভ্যাটসহ পণ্যমূল্য উল্লেখ থাকবে। ফলে চালান প্রদানের পর হিসাবে গরমিল করার সুযোগ থাকবে না ব্যবসায়ীদের। একটি লেনদেনে একাধিক প্রিন্ট দেওয়ার সুযোগও থাকছে না কোনো প্রতিষ্ঠানের। 


ডিভাইন আইটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান রাসেল সমকালকে বলেন, ভ্যাট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের দৈনন্দিন ব্যবসার খুঁটিনাটি কাজ করতে পারবেন। এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ক্রয় হিসাব পুস্তক, বিক্রয় হিসাব পুস্তক, কর চালানপত্র, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের চালানপত্র, পণ্য স্থানান্তর চালানপত্র, উৎসে কর কর্তন সনদপত্র, ক্রেডিট ও ডেবিট নোট, টার্নওভার কর চালানপত্র, ক্রয়-বিক্রয় চালানপত্রের তথ্য, সম্পূূরক শুল্ক্ক সমন্বয়ের আবেদনপত্র, মূল্য সংযোজন কর দাখিলপত্র এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় কার্যতালিকা এবং প্রতিবেদন তৈরি করতে পারবেন। ভ্যাট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারটি এসএপি, ওরাকল অথবা অন্য কোনো এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিং (ইআরপি) সফটওয়্যারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যাবে। এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান হিসাব সংরক্ষণ সংক্রান্ত অন্য কোনো সিস্টেম ব্যবহার করলেও ভ্যাট সফটওয়্যার স্থাপনে কোনো সমস্যা হবে না।

এক ছাদের নিচে ভ্যাট সফটওয়্যার

'টেকনোলজি ফর প্রসপারিটি'- স্লোগানে আগামী ১৯ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (বিআইসিসি) শুরু হচ্ছে দেশের সফটওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী 'বেসিস সফট এক্সপো ২০১৯'। প্রদর্শনী এলাকাকে ১০টি জোনে ভাগ করা থাকবে। এতে ৩০টিরও বেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এতে শতাধিক দেশি-বিদেশি আইসিটি বিশেষজ্ঞ বক্তব্য দেবেন। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য থাকছে বি-টু-বি ম্যাচ মেকিং সেশন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার প্রসার খুব সহজেই করতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প। আর বরাবরের মতো গেমিং ফেস্ট তো থাকছেই। বেসিসের এ আয়োজনে প্রথমবারের মতো ভ্যাট সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে থাকছে বিশেষ জোন। এ জোন থেকে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট সফটওয়্যারে দর-দাম থেকে খুঁটিনাটি জানতে পারবেন। মেলার আহ্বায়ক ফারহানা এ রহমান বলেন, আমরা আশা করছি, ভ্যাটসংশ্নিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য এটা হবে দারুণ সুযোগ। তারা এক ছাদের নিচে অনুমোদিত সব ভ্যাট সফটওয়্যার যাচাই-বাছাই করে নিতে পারবেন। ভ্যাট সফটওয়্যার নির্মাতারাও এ আয়োজনে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন। প্রদর্শনীতে ভ্যাট জোনটি নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করেন তিনি।

এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, 'বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯' শীর্ষক মেলার মাধ্যমে অন্তত ১১টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভ্যাট সমস্যার সমাধান ও হিসাব-নিকাশের সফটওয়্যার প্রদর্শন করবে। এখানে গ্রাহক তাদের সুবিধা-অসুবিধা ভ্যাট সফটওয়্যার ডেভলপারদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে পারবেন। ভ্যাট সমস্যার সমাধানে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন 'দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সফটওয়্যারের নিজস্ব চাহিদা পূরণে সক্ষমতা প্রদর্শন ও আস্থা তৈরিই এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য। বিস্তারিত জানা যাবে www.softexpo.com.bd ঠিকানায়।