পহেলা বৈশাখ

সাটুরিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাজশিল্পীরা

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

মো. জাহাঙ্গীর আলম সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাজ তৈরির শিল্পীরা। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন মেলায় এ সাজের চাহিদা বেশি হওয়ায় রাত-দিন কাজ করছে পরিবারের ছোট-বড় সবাই। বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামে ৯ পরিবারের বণিক সদস্যরা পহেলা বৈশাখকে ঘিরে সাজ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শুক্রবার ভাটারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ননী গোপাল বণিক গুড়ের বাতাসা তৈরি করছেন। সঙ্গে জোগান দিচ্ছেন স্ত্রী আলো রানী বণিক। চুলার মধ্যে আখের গুড় জাল করে একটি ছিদ্র পাত্র দিয়ে ঢেলে বড় বড় বাতাসা সাজ তৈরি করছেন। এ বাতাসা বিন্নি দিয়ে খেতে খুবই মজা বলে তিনি জানান। প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত তিনি। ননী বণিক আরও জানান, খাঁটি আখের গুড় ছাড়া এ সাজ বানানো যায় না। রাজশাহী থেকে এক মণ খাঁটি গুড় কিনতে ২ হাজার ৭শ' টাকা লাগে। আর এক মণ গুড় দিয়ে ৩৫ থেকে ৩৬ কেজি বাতাসা তৈরি হয়। মণে একশত টাকা লাভ করে বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি বিক্রি মূল্যে ২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। তবে এলকার হাট-বাজারে

আখের গুড় চিনি মেশানো থাকায় এ গুড় দিয়ে সাজ তৈরি করা যায় না বলে জানান।

বাসুদেব বণিক চিনি দিয়ে তৈরি করছেন মকুট, হাতি, ঘোড়া, মাছ, নৌকা, পাখি ও লিচুসহ বিভিন্ন সাজ। কাঠের ফ্রেমে চিনি জাল করে ঢেলে দিয়ে ৫ মিনিট পর তৈরি হচ্ছে এসব সাজ। তিনি জানান, এক মণ চিনিতে এক মণ সাজ হয়। এতে ২ হাজার ৭ শত টাকা খরচ হয়। ১শ' টাকা লাভে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। এসব সাজ মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মধুপুর সখীপুর, গাজীপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পহেলা বৈশাখে চাহিদা থাকে। প্রতিদিন গড়ে এক মণ সাজ তৈরি করা যায়। পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে এ সাজের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

শ্যামল বণিক জানান, স্বাধীনতার আগে ও পরে এই ভাটারা গ্রামে ৭৮২ পরিবার বণিক ছিল। তারা সবাই ওই সময় তাঁতের কাজ করত। বেশির ভাগ বণিক ভারতে চলে যাওয়ায় এখন মাত্র ৯ পরিবার সাজের পেশা ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে বেশি সাজ বিক্রি হয়ে থাকে। বছরের ৪ মাস পুরোদমে সাজের অর্ডার পান। বাকি মাসগুলো বসে বসে খেতে হয়।