খানাখন্দে ভরা সড়ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু মুন্সীগঞ্জ

খানাখন্দে ভরা সড়ক

মুন্সীগঞ্জের ইসলামপুর-যোগনীঘাট-চরকিশোরগঞ্জ সড়কটির বেহাল দশা - সমকাল

মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে গজারিয়া উপজেলা থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে যাতায়াতে ব্যবহূত মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ইসলামপুর-যোগনীঘাট-চরকিশোরগঞ্জ সড়কটি খানাখন্দে ভরা। সড়কটি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার অধীনে থাকা আধা কিলোমিটার এলাকা ভালো হলেও সীমান্তবর্তী সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকা হয়ে মেঘনা তীরের ফেরিঘাটের পন্টুন পর্যন্ত সড়কটির একাধিক স্থানে বড় বড় গর্তসহ খানাখন্দে ভরা। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির অবস্থা বেহাল হওয়ায় প্রতিদিনই যানবাহন উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। এমনকি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহনগুলোও বিকল হয়ে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবারও ৩টি অটোবাইক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ফেরি সার্ভিস চালু করতে মেঘনা নদীর উভয় প্রান্তে বিআইডব্লিউটিএ ফেরিঘাটের পন্টুন স্থাপন ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণকাজ শেষ করলেও সড়কটি সরু হওয়ায় এবং তার মধ্যে একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় সড়কটি যানবাহন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তারপরও বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ও যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এমনকি সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু না হওয়া এবং সরু হওয়ায় প্রস্তুত থাকা ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপারের কাজ বিলম্ব হচ্ছে।

বিআডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এখনই ছোট ছোট যানবাহন পারাপার করা সম্ভব হলেও সরু সড়কটি প্রশস্তসহ সার্বিক উন্নয়নের কাজ শেষে যানবাহন পারাপার করা যাবে। তবে আগামী জুলাই-আগস্টে নতুন অর্থবছরেই ৫২ কোটি টাকার প্রকল্পের সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে।

এখন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে সওজ সূত্রে জানা গেছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক দেলোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে মেঘনার তীর থেকে মুন্সীগঞ্জ শহরে যাওয়ার পথে স্ট্যান্ডের কাছেই সড়কটি ভাঙা থাকায় তার গাড়ি উল্টে যায়। এছাড়া এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সড়কের চরকিশোরগঞ্জ বড় জামে মসজিদ এলাকায় খানাখন্দে ভরা ও বড় গর্ত থাকায় মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে গজারিয়া যাওয়ার পথে ২টি অটোবাইক উল্টে যায়। চালক শাহাবুদ্দিন জানান, তার অটোবাইকে থাকা ৭ যাত্রী আহত হওয়ায় তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে এ সড়কে লাইনম্যান কাশেম জানান, এ সড়কে ৩০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ৪৫টি অটোবাইক চলাচল করে।

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক সমকালকে জানান, মেঘনা নদীর উভয় প্রান্তে পন্টুনসহ ফেরিঘাট স্থাপনের কাজ শেষ করা হয়েছে। এখনই ছোট ছোট যানবাহন পারাপার করা সম্ভব হলেও মুন্সীগঞ্জ শহর মেঘনার তীর পর্যন্ত সরু সড়কটি প্রশস্তকরণসহ সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ করেনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এ ছাড়া আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিসির ফেরি সরবরাহ প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলীউল হোসেন জানান, প্রশস্তকরণসহ সড়কের সার্বিক উন্নয়নের কাজ আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে পুরোদমে শুরু করা হবে। এ লক্ষ্যে এখন ঠিকাদার নিয়োগের কাজ চলছে। সম্প্রতি একনেকের বৈঠকে ৫২ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।