সেতুর অভাবে ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

শিবালয়

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

নিরঞ্জন সূত্রধর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)

শিবালয়ের বাড়াদিয়া বাজারের পাশে ইছামতি নদীতে সেতু না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ নদীর বিভিন্ন স্থানে সেতু দেওয়া হলেও বাড়াদিয়া বাজারের সঙ্গে সেতু না থাকায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে। শিবালয়ের সঙ্গে ঘিওর উপজেলার সহজে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা বাড়াদিয়া-আগুনপুর সড়ক। কিন্তু নদীতে সেতু না থাকায় এবং সরাসরি যানবাহন চলাচল করতে না পারায় নদীর উভয় পাশের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। বাড়াদিয়া বাজারের সঙ্গে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া ওই নদী পার হয়ে যেতে হয় প্রায় আড়াইশ' বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী আরিচা ঘাটে।

আরিচা বন্দরের সঙ্গে রয়েছে উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং জেলা ও উপজেলার কয়েকবারের শ্রেষ্ঠ সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ। ঘিওর উপজেলার আগুনপুর, বাতান্ডো, করজনা, নেগিকান্দি, বর্ধমানকান্দি, হিজুলিয়া, মেহেদিপুর, বড়টিয়াসহ ১৪-১৫টি গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষকে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ নদীতে বছরের প্রায় আট থেকে নয় মাস পানি থাকে। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকায় ও পানি একটু কমলে সাঁকোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ ওই এলাকার মানুষ। এ ছাড়া ওই এলাকার কৃষকদের তাদের মাঠে উৎপাদিত ফসল বড় হাটবাজারে বিক্রি করতে হলে প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে ভ্যান ও রিকশায় করে নিতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বার পরিবর্তন হয়েছে; কিন্তু নির্বাচন এলে সব প্রার্থীই আগে সেতু করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেন। আমরাও তাদের সরল বিশ্বাসে ভোট দিই। কিন্তু নির্বাচনে যিনি-ই নির্বাচিত হন, তিনি আর সেতু দেওয়ার কথা মনে রাখেন না। এভাবে আমাদের একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খেয়া নৌকা ভুবে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন তারা। উথলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জানান, বাড়াদিয়া বাজারের সঙ্গে ইছামতি নদীতে একটি সেতুর প্রয়োজন। সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি করার জন্য চেষ্টা চলছে।