সংরক্ষণাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে সবজি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা)

ঢাকা জেলার মধ্যে ধামরাই উপজেলা সবজির উপজেলা হিসেবেও বেশ পরিচিতি রয়েছে। প্রায় সারাবছরই এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়। বিশেষ করে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি। শীতকালে নানারকম পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি উৎপাদন ও বিক্রির ধুম পড়ে। তবে ভরা মৌসুমে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম খুব কমে যায়। ফলে প্রচুর পরিমাণ সবজি অবিক্রীত থেকে নষ্ট হয়ে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এতে মোটা অঙ্কের লোকসানও গোনেন তারা। ধামরাইয়ের এ চিত্র দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। তাই ধামরাইয়ে সরকারিভাবে 'সবজি সংরক্ষণাগার' নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি এলাকার চাষিদের।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। এসব জমিতে প্রায় ৩০ লাখ টন সবজি উৎপাদন করেন চাষিরা। এত ব্যাপক সবজি উৎপাদনের মহাযজ্ঞে প্রায় ২০ হাজার কৃষক কারিগর হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

ধামরাইয়ের সুঙ্গরচর গ্রামের সবজি চাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি এ বছর ছয় বিঘা জমিতে লালশাক, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া ও বেগুনের চাষ করেছেন। ধামরাইয়ে কোনো সবজি সংরক্ষণাগার না থাকায় তার উৎপাদিত সবজি লোকসান দিয়ে কম দামেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার অনেক সময় বিক্রি না হলে তা পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে তার সবজির উৎপাদন খরচও হয় না।

ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া গ্রামের সবজি চাষি আবদুস সামাদ বলেন, অবিক্রীত সবজির পচনরোধে সরকারিভাবে সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করতে আমরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছি।

এদিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে 'সবজি সংরক্ষণাগার' স্থাপনের কাজ শুরু করেছে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। এটি উপজেলার দুই অঞ্চলের (সবজিঅধ্যুষিত এলাকায়) সবজি চাষিরা ব্যবহার করতে পারবেন। ইফাদ এবং পিকেএসএফের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বলে জানা যায়। ওই দুটি সংরক্ষণাগারে আট ও চার টন সবজি মজুদ করা যাবে।

এসডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কালামপুর-সাটুরিয়া সড়কের পাশে উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাসনা গ্রামে এবং রোয়াইল ইউনিয়নের খরারচর এলাকায় দুটি সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের কাজ চলছে। উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণাগারে রেখে দীর্ঘদিন পরও বিক্রি করতে

পারবেন কৃষকরা। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য এ ধরনের সবজি সংরক্ষণ করতে কৃষকরাই উৎসাহিত হবেন।

কৃষিবিদ আওলাদ হোসেন জানান, জাত ও প্রকারভেদে সংরক্ষণাগারে ৩০-৪০ দিন পর্যন্ত সবজির গুণগত মান ও রঙ অপরিবর্তিত বা সতেজ থাকে। গাজর এবং কাঁচা

টমেটো ভালো থাকে ৬০-৭০ দিন পর্যন্ত। আম সংরক্ষণ করা যায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত। সংরক্ষণের জন্য কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এতে ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম।

ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হাসান বলেন, সবজির অপচয় ও চাষিদের লোকসান ঠেকাতে ধামরাইয়ে সরকারিভাবে সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি জানানো হবে।