দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ও নারিশার ডাক-বাংলোর পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

সমকালে 'ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, ভাঙন শঙ্কায় এলাকাবাসী' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর গত মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার পরও থামছে না বালু উত্তোলন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীর তীরবর্তী এলাকায় শ্যালো মেশিন, বালু কাটার মেশিন ও ড্রেজার বসিয়ে নদীর বুক চিড়ে বালু উত্তোলন করছে এই সিন্ডিকেট। সূত্র জানায়, পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অন্যদিকে, সরকার হারাচ্ছে মোটা রাজস্ব।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উপজেলার নারিশা ও মুকসুদপুর পদ্মা নদীর তীর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দিনরাত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এই বালু আবার ঘাট এলাকায় পাহাড়ের মতো স্তূপ করে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী জনবসতিসহ কৃষি ও আবাদি জমি ভাঙনের আশঙ্কায় ভীত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। অন্যদিকে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। প্রতিবেদকের কাছে এলাকাবাসীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কয়েকজন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পদ্মা নদীতে ১০-১২টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এলাকাবাসী বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রতি বছরই বারবার প্রশাসনকে তাগাদা দিলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তা আমলে না নিয়েই রাজনৈতিক প্রভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, শুকনো মৌসুমের কারণে নদীর পানি বর্তমানে কমে গেছে। তাই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে প্রবল স্রোতে নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীতে বিলিন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা জানা নেই। বালু মহাল দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার ও পাইপ লাইন ধ্বংস করবেন। পুলিশ ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত করা আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, মাস খানেক আগে অবৈধভাবে বালু লুটের অভিযোগে মৈনটঘাটের আওয়ামী লীগ নেতা বাহার খাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নগদ এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। আবারও তারা বালু উত্তোলন করছে নদীর বুক চিড়ে। কোনো অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান চালানো হবে শিগগিরই।

মন্তব্য করুন