দোহারে কুকুরের কামড়ে দু'দিনে আহত ২৭

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার দোহার উপজেলার সর্বত্র এখন কুকুর আতঙ্ক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর আসছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার কুকুরের কামড়ে ২৭ জন আহত হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। বেওয়ারিশ এসব কুকুর নিধনে দোহার পৌরসভা ও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন-সুবিধা না থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর, চরলটাখোলা ও হরিচণ্ডী গ্রামে একের পর এক মানুষকে পাগলা কুকুর কামড় দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু বৃহস্পতি ও শুক্রবার এ তিনটি গ্রামে শিশু, কিশোর, কিশোরী, বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ ২৭ জন আহত হন। দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্টার থেকে জানা যায়, এক মাসে ৫০ জনকে বেওয়ারিশ কুকুর কামড় দিয়েছে।

কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন শিলাকোঠা গ্রামের ফাহিম (১৩), চরলটাখোলা গ্রামের তাইবা (৭), আকাশ (৬), হেনা (২৭), শামীম হোসেন (২৫), তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), মিতু (২৬), নুরু (৪০), চরকুশাইরচর গ্রামের রেশা (৬০), মোহাম্মদপুর গ্রামের সত্তর মুন্সী (৬৫), দক্ষিণ বাহ্রা গ্রামের মর্জিয়া (৭), চরমোহাম্মদপুর গ্রামের আলামিন (৬), চরবইতা গ্রামের সত্তর মোল্লা (৫০), শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের আনু (৯০), নারায়ণপুর গ্রামের মমতা (৪০) ও মৌড়া গ্রামের মোসলেম (৬০)।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত অনেক রোগী এখানে আসছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন-সুবিধা না থাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

আহত সত্তর মুন্সী জানান, কুকুরে কামড়ের পর তিনি ভ্যাকসিনের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভ্যাকসিন পাননি। বাধ্য হয়ে ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু ড্রেসিং করে দেওয়া হয়েছে।

দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন সরবরাহের সেবা চালু করা যায়নি। তবে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে এ সেবা নিতে পরামর্শ দেন তিনি।