সিরাজদীখানে ইটভাটার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাড়ছে শিশু শ্রমিক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবুল সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় ধলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ে পঞ্চাশটিরও বেশি ইটভাটা রয়েছে। উপজেলার চান্দেরচর, বালুরচর, আকবরনগর, রামকৃষ্ণদী, কুচিয়ামোড়া এলাকায়। এসব ইটভাটায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ শিশু শ্রমিক কাজ করছে। কম বেতনে শ্রমিক পাওয়ার সুবিধায় আইন অমান্য করে শিশুদের দিয়ে ইটভাটায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করাচ্ছেন মালিকরা। আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচের শিশুকে কোনো কাজে নিয়োগে এবং ১৮ বছরের নিচের কোনো শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ নিষেধাজ্ঞা মানছেন না তারা। সরেজমিনে দেখা যায় ইটভাটায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেসব শিশু শ্রমিক আছে তাদের বয়স বেশিরভাগ ১১ বছরের নিচে।

উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় কিশোরগঞ্জ, রংপুর, বরিশাল থেকে আসা শিশু শ্রমিকদের সংখ্যাই বেশি। প্রত্যেকটি শিশু শ্রমিক সপরিবারে এসেছে বাবা-মার সঙ্গে কাজে জোগান দিয়ে টাকা বেশি রোজগারের আশায়। শুধু টাকার জন্য শিশুরা এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে বলে জানায় এক শিশু শ্রমিক। এসব শিশু ইট তৈরি থেকে শুরু করে ইট টানা বালু টানার কাজ করে থাকে প্রতিদিন। একেকজন শিশু শ্রমিক মাথাপিছু সাপ্তাহিক ৮০০ টাকা করে আয় করে। ইট মাথায় করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যেতে হয়। একসঙ্গে নিতে হয় ছয়টি ইট, যার ওজন সব মিলিয়ে ২০ কেজি। ৫০০ ইট টানার বিনিময়ে মেলে মাত্র ৫০ টাকা। একসঙ্গে ছয়টি ইট বহন করতে গিয়ে অনেক শিশু দুর্ঘটনায়ও পড়ছে। এসব শিশু ভাটাতেই থাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে চলে যায় ইটভাটায়। টানা কাজ করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সিরাজদীখান ইটভাটা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মান্নান মাদবর বলেন, আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন হোক এমন কিছু করি না। কোনো শিশু শ্রমিকদের ইটভাটায় কাজ করার জন্য নিয়োগ দেই না। ইটভাটার কাজ হয় কন্টাক্টের মাধ্যমে। ঠিকাদারের আওতায় যাদের আমরা ঠিকা দিয়েছি

তারা তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে কাজ করে, এখানে আমাদের করার কিছু থাকে না।

শিশু শ্রমিক মো. নয়ন জানায়, এখানে সে মা-বাবার সঙ্গে এসেছে। তাদের সঙ্গেই কাজ করে, তবে লেখাপড়ার কোনো সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানবীর মোহাম্মদ আজিম বলেন, শিশু শ্রম নিয়ে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি।

ইটভাটা মালিক সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভাসহ এনজিও সভায় এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। আমরা প্রতিটি এনজিওকে

এ ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।