শীতলক্ষ্যা দখল করে ১২ অবৈধ বালুমহাল

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

জিয়াউর রাশেদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন-রূপসী সড়কের কালাদি এলাকা থেকে শুরু করে বানিয়াদি এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটারের মধ্যে শীতলক্ষ্যা তীরে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ১২টি বালুমহাল। ব্যক্তিগত জমির পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে গড়ে উঠেছে এসব বালুমহাল। বালুমহালের কারণে কাঞ্চন-রূপসী সড়কের বেহালদশা। এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধের পথে। বালু মহালের কারণে বছরে এ সড়কসহ আশপাশের সড়কের প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বানিয়াদি এলাকায় জাবেদ আলী, আলামিন, মুন্না মিয়া, জাব্বার হোসেন, হাটাবো এলাকার নজরুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, কাইয়ুম মিয়া, মোতালিব মিয়া, মাহবুব হোসেন, মকবুল হোসেন, ত্রিশকাহনিয়া এলাকার আলামিন, বিল্লাল, কালাদির আমির হোসেন ও মনির হোসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে এসব বালু মহাল গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া সড়কের ক্ষতির আরেক কারণ হাটাব এলাকার এনডিই নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে গত কয়েক বছর ধরেই কালাদি-কাঞ্চন সড়কের পাশে শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার স্থাপন করে পাইপের মাধ্যমে ১২টি স্থানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সড়ক কেটে এসব পাইপ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া বালু মহাল থেকে ইছারমাথা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। এতে ধুলাবালিতে এলাকাবাসী চলাফেরা করতে পারছে না।

বিশেষ করে ত্রিশকাহনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৬ বিঘা জমি জবরদখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী বিল্লাল হোসেন। ওই জমি গভীরভাবে খনন করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে এবং পাইপ স্থাপন করে বালুর ব্যবসা শুরু করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মেসার্স মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের নামে এ বালুর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বিল্লাল। প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু করে বালু ভরাট করা হচ্ছে ওই জমিতে। অনুমোদনবিহীন ট্রাক্টর ও ট্রাকযোগে উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এখান থেকে বালু সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি জবরদখল করে বালুর ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে রয়েছেন সায়েম মিয়া, মাহাবুব খান রাজীব ও রাশেদ মিয়াসহ আরও তিন জন।

বাতাসে এসব বালু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে পুরো এলাকা বালুতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। বাসা-বাড়িতে বালু ঢুকে পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। বালুর কারণে রান্না করা খাবারও খেতে পারছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। বালু মিশ্রিত পানিতে রূপসী-কাঞ্চন সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক সময় এসব গর্তে পড়ে যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটনায় শিল্প প্রতিষ্ঠানে সময় মতো মালমাল পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক কেটে ড্রেজারের পাইপ বসানোয় নষ্ট হচ্ছে এ সড়কটি। এ বালুর ব্যবসার কারণে বছরে এ সড়কের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসবের প্রতিবাদ করলে মামলা হামলার শিকার হতে হবে বলে বালু মহালের প্রভাবশালী মালিকদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও পাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জবরদখল করা জমি উদ্ধারসহ জনবহুল এলাকায় বালুর ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বালু ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারের কাছে লিজ নিয়ে বালুর ব্যবসা করছি। এতে রাস্তার বা পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কি-না, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালুমহাল বন্ধ এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।