শতাধিক ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে টায়ার ও কাঠ

কেরানীগঞ্জ

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

মোহাম্মদ রায়হান খান, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)

শতাধিক ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে টায়ার ও কাঠ

কেরানীগঞ্জের কোণ্ডা ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে টায়ার - সমকাল

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কেরানীগঞ্জে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে টায়ার ও কাঠ। উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করেও এর কোনো সফলতা পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি এসব ইটভাটা বন্ধের জন্য একাধিকবার মালিকদের নির্দেশনা দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোণ্ডা ইউনিয়নে শতাধিক অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি সরকারি খাল থেকে মাটি চুরি করে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি চক্র। ওইসব ইটভাটার নেই সরকারি অনুমোদন। পরিবেশ অধিদপ্তর এসব ইটভাটা মালিককে একাধিক নোটিশ দিলেও কোনো তোয়াক্কা করছে না তারা।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই ফসলি জমি, সরকারি খাস জমি ও খাল দখল করে কিছু অবৈধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গড়ে তুলেছে এসব ইটভাটা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব ইটভাটায় দেদার পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, পুরাতন টায়ার ও প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ। এতে যেমন বেড়ে গেছে বায়ু দূষণের মাত্রা, তেমনি দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছগাছালি। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি কমে গেছে ফসলি জমির পরিমাণ, ফলন কমেছে ফলদ উদ্ভিদের। কোণ্ডা ইউনিয়নের মোল্লার হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোল্লার ব্রিকস নামের একটি অবৈধ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। পোড়ানোর জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে কাঠ ও টায়ার। এমন চিত্র প্রতিটি ইটভাটায় দেখা গেছে। এ ছাড়া জাজিরা এলাকায় ইটভাটায় বিক্রির জন্য পুরনো টায়ার ও কাঠের আড়ৎ দিয়ে বসেছেন কিছু ব্যবসায়ী।

কোণ্ডা ও সাধুরবাজার এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন ও আবদুর রহমান বলেন, আমাদের পুরো ইউনিয়নটিই ইটভাটায় পরিণত হয়েছে। চারপাশের যেদিকে তাকাই শুধু দেখা যায় ইটভাটার চিমনি। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অসৎ ব্যবসায়ীরা এসব ভাটা পরিচালনা করছে। এসব ভাটার দূষিত কালো ধোঁয়ার কারণে এলাকায় গাছগাছালির সংখ্যা কমে গেছে। জাজিরা বোটঘাট এলাকার পুরনো টায়ার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা পুরনো টায়ার, গাছ, কাঠ ও কাঠের ভুসি বিক্রি করি। এগুলো ইটভাটায় পোড়ানোর জন্যই ক্রেতারা নিয়ে যান।

ইটভাটার কয়েক মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোণ্ডা ইউনিয়নে ইটভাটা মালিক নামে একটি সমিতি রয়েছে। সমিতির নামে প্রত্যেক ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়। এসব টাকা দিয়ে প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করে ইটভাটা চালাচ্ছে তারা। প্রতি মৌসুমে তারা সমিতিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দেয়। সমিতিই পরিবেশের লোক ও প্রশাসন ম্যানেজ করে। এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে সমিতির সহসভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবেন। স্থানীয় কোণ্ডা ইউপি চেয়ারম্যান ও কেরানীগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সহসভাপতি সাইদুর রহমান চৌধুরী ফারুক বলেন, কয়লার আমদানি কম থাকায় ইটভাটা মালিকরা কাঠ ও টায়ার পোড়াচ্ছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ সার্কেল প্রমথ রঞ্জন ঘটক বলেন, এর আগে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। এ ছাড়া আমরা সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ ইটভাটার পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছি। তালিকা পেলেই ফের অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরকারি সম্পত্তির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, কোণ্ডা ইউনিয়নে ইটভাটা স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই। মালিকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা কোনো আইনের তোয়াক্কা না করে ইটভাটা চালাচ্ছে। আমার শিগগির অভিযানে নামব।