ঝুঁকিপূর্ণ পৌর সুপারমার্কেট অনুমোদন ছাড়াই চারতলা

মানিকগঞ্জ

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয় তলার পৌর সুপারমার্কেট অনুমোদন ছাড়াই চারতলা করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নকশাবহির্ভূত অনেক দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা পৌর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্কেটের অবকাঠামোগত দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও দুইতলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভবন। পৌরসভার অনুমোদন না থাকলেও তিনতলায় চলছে দুটি হাসপাতালসহ অর্ধশত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। চারতলার নির্মাণকাজ শেষ। সেখানে পোশাক কারখানা করা হবে।

১৯৯৮ সালে মার্কেটটি নির্মাণের সময়ই নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। মার্কেটের করিডোর ও লিফটের জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের কয়েক বছর যেতে না যেতেই মার্কেটের প্লাস্টার খসে পড়তে শুরু করে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। দোকান মালিকদের আন্দোলন সত্ত্বেও তৎকালীন পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেটটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি একে একে তিনতলা থেকে চারতলায় রূপান্তর করা হয়।

পৌর সুপারমার্কেট বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ জানান, মার্কেটটি অবকাঠামোগতভাবে খুবই দুর্বল। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পরও লোড বেয়ারিং টেস্ট ছাড়া তিন ও চারতলা নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটের ইলেকট্রিক্যাল ওয়ারিং অত্যন্ত দুর্বল ও নিম্নমানের। যে কোনো সময় শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মার্কেটের নিজস্ব ট্রান্সমিটার না থাকায় প্রতি মাসে বাড়তি সমন্বয় বিল দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে পৌর সুপারমার্কেট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মার্কেট নির্মাণের পর থেকে আমরা জানি এটা দুইতলা মার্কেট। এমনটি বলেই দোকান বরাদ্দ দিয়েছিল তৎকালীন মানিকগঞ্জ পৌরসভা। সেখানে এখন চারতলা নির্মাণ করা হয়েছে। যে কোনো সময় রানা প্লাজার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম জানান, দায়িত্ব গ্রহণ করে জানতে পারি, মার্কেটটিতে অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা। মার্কেট নির্মাণে যত অনিয়ম হয়েছে, সব আগের মেয়রের সময় হয়েছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন জানান, ১৯৯৮ সালে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে অনুমোদন ছাড়াই মার্কেটটি তিনতলা করা হয়। এর পর ২০১৫ সালে অনুমোদন ছাড়াই তিনতলা থেকে চারতলা করা হয়েছে। মার্কেটটি সংস্কার করা হলে ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব।