সোনারগাঁ

কৃষিজমি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা

মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯

শাহাদাত হোসেন রতন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

কৃষিজমি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা

সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর সোনামুই এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়- সমকাল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন ৩০-৩৫টি ড্রেজার বসিয়ে নদীতীরবর্তী কৃষিজমির কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী চক্রটি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা নদীবেষ্টিত অনেক গ্রাম এখন হুমকির মুখে রয়েছে। কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চর নুনেরটেক ও এর তীরবর্তী বালুমহালটির ইজারার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ আদেশ অমান্য করে প্রতি রাতে ও দিনে মেঘনা নদীর হাড়িয়া, সোনামুই, নুনেরটেক এলাকায় চুরি করে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা।

বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে উপজেলার খাসেরচর, ভুরভুরিয়া, ভাটিবন্দর ও সুলতাননগর গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে, মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া সোনামুইসহ কয়েকটি গ্রামও হুমকির মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন তার ছেলে রকি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত, বিএনপি নেতা তাওলাদ ও যুবলীগ নেতা নজরুল, নুনেরটেক গ্রামের আবুল হাসেম একটি সিন্ডিকেট করে সোনামুই, নুনেরটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু উত্তোলনকারীর দাপটে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসনও। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে তারা।

এলাকাবাসী জানায়, নুনেরটেক এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে দুদু মিয়া, আব্দুর রহিম, তোতা মিয়া, লতিফ মিয়া, সামসুল হক, শামসুদ্দিন, আব্দুর রশিদ, সোনা মিয়া, রমজান আলী, আমির, রমু মিয়া, আলমাছসহ ২০ জনের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রঘুনাথপুর, গুচ্ছগ্রাম, সবুজবাগ ও আশপাশ এলাকার শতাধিক পরিবার ওই এলাকার ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোনোভাবেই ভাঙন রোধ করা যাবে না।

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মেঘনা নদীর আনন্দবাজার এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। সেখানে প্রায় ১০-১২টি বাল্ক্কহেড বালু নেওয়ার জন্য ভিড় জমিয়েছে।

অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযুক্ত বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, মেঘনা নদী থেকে তিনি বালু উত্তোলন করেন না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য তিনিও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় ৫ জনকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।