সোনারগাঁয়ে জমি নিয়ে বিরোধ

ইউপি চেয়ারম্যানের মারধরে প্রতিপক্ষ হাসপাতালে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান মারধর করে কবির হোসেন নামে এক কাঠমিস্ত্রিকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি-সংক্রান্ত বিরোধে গতকাল বুধবার বিকেলে পরমেশ্বরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই কাঠমিস্ত্রিকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আব্দুল মতিন মোল্লার ছেলে কাঠমিস্ত্রি কবির হোসেন সরকারি এক একর ৮ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই লিজকৃত জমি চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে লিজ বাতিল করে তার আত্মীয় কাউসারের নামে লিজ নবায়ন করে নেন। ওই জমিতে একটি পুকুর রয়েছে। লিজ বাতিলের আগে পুকুরে কবির বিভিন্ন মাছ চাষ করেন। সোনারগাঁ উপজেলা ভূমি কার্যালয় কবিরের পক্ষে ওই চাষকৃত মাছ ধরার জন্য রায় দেয়। এ বিষয়টি চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান জানতে পেরে আনোয়ার মেম্বারের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল ওই পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে কবির সোনারগাঁ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়। এতে চেয়ারম্যান কবির হোসেনের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে ঘটনাস্থলে এসে কবির হোসেনকে পেয়ে পিটিয়ে আহত করেন।

কবির হোসেনের ছোট ভাই আওলাদ হোসেন জানান, দীর্ঘ ৫৫ ধরে সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে বিরোধকৃত সম্পত্তি আমরা ভোগদখল করে আসছি। সম্প্রতি নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ানের চোখ পড়ে ওই জমির দিকে। চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের লিজ বাতিল করে তার আত্মীয় কাউসারের নামে লিজ নিয়ে নেন তিনি। ওই জমির পাশের একটি পুকুরে আমাদের চাষকৃত মাছ ধরে নেওয়ার জন্য প্রশাসন আমাদের পক্ষে রায় দেয়। তাছাড়া আমরা চেয়ারম্যানের লিজ বাতিলের জন্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। মামলা থাকার পরও চেয়ারম্যানের পালিত সন্ত্রাসী আনোয়ার মেম্বারের নেতৃত্বে একটি দল আমাদের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ নিয়ে আসার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান নিজ হাতে আমার ভাইকে পিটিয়ে আহত করেন।

অভিযুক্ত নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি লিজকৃত জমি নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছে। এ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসার জন্য একটু শাসন করেছি।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।