কেরানীগঞ্জ থানার ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

আদালত প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মো. যোবায়েরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে মামলা করেছেন এক নারী। তিনি নিজেকে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক শহিদুল ইসলামের আদালতে এ মামলা হয়। ওসিসহ পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ধর্ষণের আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আপস করতে বলায়। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ওসি শাকের মো. যোবায়ের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ওসি (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার, উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আমিন বাশার, হায়দার, ফারুক, মো. ইকবাল, মো. হানিফ, হানিফ মেম্বার, মো. রফিক, মো. শফিক ও মো. বাবুল ওরফে মধু। তাদের মধ্যে হায়দার বাদীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অন্যরা ধর্ষণে সহায়তা করেন।

গত ২০ এপ্রিল বছিলা সেতুর ওপারে কেরানীগঞ্জ থানা এলাকার আরশীনগরের একটি ঘটনা পুলিশকে জানানোয় ধর্ষণের শিকার হন বলে ওই নারী দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওইদিন দুপুর ১টায় তিনি এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে আরশীনগর মোড়ে যাচ্ছিলেন। পথে আমির মাদবরের সিমেন্টের দোকানের সামনে এলে দেখতে পান ২০-৩০ জন লোক কয়েকজনকে ধাওয়া করছে। বিষয়টি দেখে তিনি পুলিশ হেল্প লাইন ৯৯৯-এ জানান। তা আসামিরা দেখে ফেলে এবং তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর এবং শ্নীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের একটি চেনও ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর ২৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক পৌনে ১২টায় একই থানাধীন ঘাটারচর প্রাইমারি স্কুলের সামনে থেকে আসামি হায়দার, রফিক, শফিকসহ অন্যরা তাকে স্কুলের পেছনে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় হায়দার তাকে ধর্ষণ করে ও তার সহযোগীরা পাহারা দেয়। তিনি সে সময় একমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মো. যোবায়ের বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা ওই নারীর অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এটা স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের ঘটনা।