যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে কোপাল সন্ত্রাসীরা, বাড়িতে আগুন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

রূপগঞ্জে এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত দোকানঘর জোর করে দখলে নিতে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় ওই মুক্তিযোদ্ধাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহত করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আরও চার সদস্যকে। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসীরা দিনেদুপুরে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে ভাড়াটিয়াদের বের করে দোকানঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের কুড়িয়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক জানান, তার বাড়ি কুড়িয়াইল এলাকায়। তিনি আতলাপুর বাজার এলাকার এক শতাংশ জমির ওপর দোকানঘর নির্মাণ করে বাপ-দাদার আমল থেকে ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে দোকানঘর ভাড়া দিয়েছেন তিনি। এ ভাড়ার টাকায় তার সংসার চলে।

একই এলাকার প্রতিপক্ষ মাওলা ও নাঈম ওই দোকানঘরের মালিক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত ৩১ মে দখলে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হকের প্রথম স্ত্রী অজুফা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মজিদা বেগমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। ওই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার আসামি শাহজালাল জামিনে বেরিয়ে আসার পরই মাওলা ও নাঈমের নেতৃত্বে মাসুদ, নিশুক, শামিম, মাসুম, শাহজালাল, সুমনসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী ধারালো ও দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত সোমবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়িতে প্রবেশ করে আজিজুল হককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এতে বাধা দিলে ফের প্রথম স্ত্রী অজুফা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মজিদা বেগম, মেয়ে মাকসুদা ও সম্পাকে পিটিয়ে আহত করে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ওই সময় সন্ত্রাসীরা মুক্তিযোদ্ধার বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর করে। তারা দোকানঘরের ভাড়াটিয়াদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বের করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আজিজুল হকের ছেলে রাজু বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের সংবাদে মঙ্গলবার দুপুরে সন্ত্রাসীরা ফের সশস্ত্র অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভায়। খবর পেয়ে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শফিকুল ইসলামসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে ফের হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আজিজুল হকের পরিবারের সদস্যরা। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অভিযুক্ত নাঈম ও মাওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে।

ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।