দোহারে জাহাজ তৈরির অবৈধ ডকইয়ার্ড

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯

মাহবুবুর রহমান টিপু, দোহার (ঢাকা)

দোহার উপজেলার নারিশা খাদ্যগুদাম সংলগ্ন ও মুকসুদপুর ইউনিয়নের পূর্বচর পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জাহাজ শিল্পের নীতিমালা অনুসরণ না করেই অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে জাহাজ ডকইয়ার্ড শিল্প। এই ডকইয়ার্ডে প্রতি বছর তৈরি হচ্ছে ৩০-৩৫টি দেড় থেকে দুই হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মালবাহী জাহাজ। নদী তীরবর্তী খালি জায়গায় প্রতিটি জাহাজ তৈরিতে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এ অবৈধ ডকইয়ার্ডের সঙ্গে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নারিশা খাদ্যগুদাম সংলগ্ন নদী তীরবর্তী খালি জায়গায় ও মুকসুদপুর ইউনিয়নের পূর্বচর এলাকায় পদ্মা নদী তীরবর্তী খালি জায়গায় প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একটি বিশাল জাহাজ শিল্পের ডকইয়ার্ড। সেখানে পল্লী বিদ্যুতের একাধিক থ্রি ফেইজ সংযোগ বসিয়ে এলোমেলোভাবে বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে প্রায় ৩০টি দেড় থেকে দুই হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মালবাহী জাহাজ নির্মাণ করছেন ওয়েলডার শ্রমিকরা। একাধিক ওয়েলডার শ্রমিক জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওয়েলডার শ্রমিকদের স্বল্প মজুরিতে চুক্তি করে এখানে আনা হয়েছে। তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে সাধারণত এক বছরের মধ্যে দেড় থেকে দুই হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চার-পাঁচতলা মালবাহী জাহাজ তৈরি করেন।

দেখা যায়, কাজের সময়ে শ্রমিকরা কোনো নিরাপত্তা পোশাক পাচ্ছেন না কিংবা ঠিকাদার মারফত সেফটি পোশাক পাচ্ছেন না। এ ছাড়া যত্রতত্রভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের তার যেখানে-সেখানে পড়ে রয়েছে। এতে যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের এমপি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের একান্ত প্রচেষ্টায় মাঝিরচর হয়ে মুকসুদপুরের শাইনপুকুর পর্যন্ত নদীভাঙন রোধে নদীশাসনের কাজ চলছে। সেনাবাহিনী থেকে এসব এলাকায় জনসাধারণের কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে কীভাবে এখানে অবৈধভাবে জাহাজ ডকইয়ার্ড চলছে এবং পল্লী বিদ্যুতের একাধিক বাণিজ্যিক সংযোগ দিয়ে জাহাজ ডকইয়ার্ড শিল্প চলছে বিষয়টি তারা বুঝতে পারছেন না।

শ্রীনগর ও মাওয়ার দুই জাহাজ নির্মাণ মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি জাহাজ তৈরিতে খালি জায়গার মাসিক ভাড়া হিসেবে গুনতে হচ্ছে ষাট হাজার টাকা এবং জায়গার ভাড়া অগ্রিম হিসেবে জাহাজপ্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্যরা। কারা এই সিন্ডিকেট জানতে চাইলে জাহাজ নির্মাণকারী এক মালিক জানান, তারা জমির মালিক। এ বিষয়ে মুকসুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান বলেন, দুই বছরে আমার দুই আত্মীয় লন্ডন প্রবাসী দুটি জাহাজ নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে দোহার পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম প্রকৌশলী মো. খুরশীদ আলম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের পাঁচটি থ্রি ফেইজ সংযোগ রয়েছে। তাছাড়া এ সংযোগের জন্য তিন-চার বছর আগে ঢাকার আরইবি হেডকোয়ার্টার থেকে অনুমোদন নেওয়া। এখানে আমার কিছু করার নেই।

এ বিষয়ে দোহারের ইউএনও আফরোজা আক্তার রিবা জানান, এখানে বছরে প্রায় ৩০টি ছোট-বড় জাহাজ নির্মাণ হচ্ছে, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমার জানা মতে এখানে জাহাজ তৈরির ডকইয়ার্ডের জন্য সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। জাহাজ ডকইয়ার্ডের জন্য সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে।