হাসপাতালে নবজাতক বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজদীখানে একটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নবজাতক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ওই এলাকার আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক নবজাতক বিক্রি করার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া অপর আরেকটি নবজাতক বিক্রি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয় তারা।

আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ১৫ দিন আগে হাবিবা বেগম নামে এক গৃহবধূ সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে এক ব্যক্তির কাছে ওই নবজাতককে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। ওই হাসপাতালের ম্যানেজার ইয়াসমিন আক্তার নীলা নবজাতকের মা হাবিবাকে টাকার প্রলোভনে ফেলে এক ব্যক্তির কাছে নবজাতক বিক্রি করে। মা হাবিবা এখন তার সন্তান ফেরত চাইছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার সন্তান বিক্রির টাকা তিনি পাননি। গৃহবধূ হাবিবা উপজেলার কাজীশাল গ্রামের বাবু মিয়ার স্ত্রী। হাসপাতালের ম্যানেজার ইয়াসমিন আক্তার নীলা বলেন, 'এর সঙ্গে আমি জড়িত না, স্ট্যাম্প করে তারা নিজেরাই বিক্রি করেছে।'

এদিকে, ঈদের দিন একই হাসপাতালে উপজেলার বাসাইল গ্রামের লিটন শেখের স্ত্রী কুলসুম বেগম সন্তান প্রসব করে। এর আগেই তার নবজাতক বিক্রির জন্য প্রলোভন দেখান নিমতলা এলাকার হলি কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডি ল্যাব নামে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন নার্স। কুলসুম বেগম আলট্রাসনোগ্রাম করতে গেলে শিশুটি প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে তা অবগত করার জন্য ওই নার্স হলি কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডি ল্যাবের নাম্বার দিয়ে দেন। জন্মের দু'দিন পর নবজাতক বিক্রির জন্য বাবা লিটন শেখ হলি কেয়ারের ওই নাম্বারে কল করলে কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে কেউ আর নবজাতক কেনার জন্য আসেনি।

আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের মালিক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, নবজাতক বিক্রি করার খবর শুনেছি। এর বিচার হওয়া উচিত। এদিকে হলি কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডি ল্যাবের মালিক শহীদুল মোড়ল বলেন, 'আমার হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা নবজাতক বিক্রির জন্য মোবাইল নাম্বার দিয়ে থাকলে তার উপযুক্ত বিচার করা হবে।' ইউএনও আশফিকুন নাহার বলেন, ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।