নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। সোমবার মধ্যরাতে ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই গুরুতর আহত অবস্থায় পলি আক্তার (২৮) ও জামাল হোসেনকে (৩৫) নারায়ণগঞ্জ দেড়শ' শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পলিকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামাল হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নিহত জামাল হোসেন ও তার স্ত্রী পলি আক্তার ফতুল্লার আদর্শনগর এলাকার মোশারফ হোসেনের বাড়ির ভাড়াটে। উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল এটি। তবে পলি তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিলেও জামালের প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। গ্রামের বাড়িতে থাকেন তারা।

পলি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার ময়দশ্রীনগর এলাকার শাহজাহান শিকদারের মেয়ে। জামাল হোসেন একই উপজেলার সুবিদখালীর সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। জামাল ও পলি সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাইবোনও।

পলি ফতুল্লার পঞ্চবটীর বিসিক শিল্পনগরে অবস্থিত ফকির অ্যাপারেলসের শ্রমিক এবং জামাল নগরের চাষাঢ়া এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন।

নিহত পলির ছোট ভাই মাঈনুল ইসলাম বলেন, পলি আপার আগে বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে শাহাজাদা (৯) নামে এক ছেলে আছে। আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে জামাল হোসেনকে ৬ মাসে আগে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর চার মাস ধরে তারা ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকায় মোশারফ হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের সঙ্গে পলির আগের সংসারের ছেলে শাহাজাদাও থাকত। নিহত পলির একমাত্র সন্তান শাহাজাদার বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, 'ছোট্ট শাহাজাদা পুলিশকে জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে বাবা জামাল হোসেন কাজে যাননি। সোমবার রাতে মা কাজ থেকে ফেরেন। তবে তার মন খারাপ ছিল। এদিকে, বাবা বাসায় থাকায় সে রাতে খাওয়ার জন্য আলু সেদ্ধ করে রাখেন। মা বাসায় ফিরলে বাবা মাকে আলু ভর্তা বানাতে বলেন। ওই সময় মা বাবাকে বলেন, আমি তো রাতে খাবোই না, ভর্তা বানাবো কার জন্য। ওই সময় উভয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে শাহাজাদা ঘুমিয়ে পড়ে। মধ্যরাতে ঘুম থেকে জেগে বাবা-মায়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হতে দেখে। এ দৃশ্য দেখে সে আবারও ঘুমিয়ে পড়ে। আরও কিছু সময় পর হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেলে দেখে ঘরের বাতি নেভানো, কোনো সাড়াশব্দ নেই। সে উঠে বাতি জ্বালিয়ে বিছানায় মায়ের রক্তাক্ত দেহ চাদর দিয়ে ঢাকা আর বাবাকে বিছানার এক কোণে ঝিম মেরে বসে থাকতে দেখে। তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে সে দ্রুত পাশের ঘরে থাকা বড় খালাকে গিয়ে ঘটনা জানায়।'

ওসি আসলাম হোসেন আরও বলেন, কোনো কিছু নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্ব থেকেই জামাল স্ত্রীকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে। বিষের বোতল দেখে পুলিশ এ ধারণা করছে।

বাড়ির মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, 'এতদিন জামাল ও পলির মধ্যে কোনো ঝামেলা ছিল বলে জানতাম না। তবে ঘটনার পর কানাঘুষা শুনেছি, পলির সঙ্গে তার তালাক দেওয়া স্বামীর যোগাযোগ ছিল। তা নিয়ে তাদের অবনতি ঘটে।'

এ ঘটনায় নিহত পলির ছোট ভাই মাঈনুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আর বাড়ির মালিক মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।