দৌলতপুরে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ গ্রেফতারের পর শিক্ষক দুই দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম সেন্টু (৩৬) নামে এক শিক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সেন্টু দৌলতপুর প্রমোদা সুন্দরী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও স্থানীয় মৃত মাঈনুদ্দিন খোশ নবিশের ছেলে। ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

জানা গেছে, যৌন নিপীড়নের শিকার ওই শিক্ষার্থীর মা প্রায়ই শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুর বাড়িতে বিভিন্ন কাজকর্মে সহযোগিতা করেন। গত জানুয়ারি মাসে প্রথম সেন্টু তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করে। এর পর একাধিকবার শিক্ষক সেন্টু নিজ স্কুলের ওই শিক্ষার্থীকে নানাভাবে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণে সহপাঠীদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে মুল্পুম্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেও সেন্টু ওই ছাত্রীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালায় বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করে। মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রী লম্পট শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুর দ্বারা যৌন হয়রানির ঘটনা কয়েকজন নার্স ও চিকিৎসকদের কাছে জানায়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনা প্রকাশ পায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনীল কর্মকার জানান, হাসপাতালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সে শিক্ষকের যৌন নিপীড়নের বর্ণনা দেওয়ার সময় অনেক কাঁদছিল। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে রাতেই শিক্ষক সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।