মুন্সীগঞ্জে জেলা ইজতেমা নিয়ে দু'পক্ষে উত্তেজনা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

মুন্সীগঞ্জ ও সিরাজদীখান প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমার আয়োজন নিয়ে তাবলিগ জামাত অনুসারী আলেম-ওলামারা দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। বিভক্ত আলেম-ওলামারা সাদপন্থি ও জুবায়েরপন্থি হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করায় আলেম-ওলামাদের মধ্যে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, আগামী ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা অনুমোদন দেওয়া হলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাবে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাবলিগ জামাত অনুসারী আলেম-ওলামাদের বিভক্ত একটি অংশ 'এতায়াত জামাত (সাদপন্থি)' নামকরণ করে তাবলিগের নামে সারাদেশে কর্মকাণ্ড শুরু করলে ঢাকার কাকরাইল মসজিদের তাবলিগের জুবায়েরপন্থি আলেম-ওলামারা বাধা দেন। এতে দু'পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের হামলার ঘটনার পর থেকে সৃষ্ট বিরোধ সারাদেশ ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে সাদপন্থি আলেম-ওলামারা আগামী ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ ও আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সাদপন্থিদের জেলা ইজতেমা ঠেকাতে জুবায়েরপন্থি আলেম-ওলামারা আন্দোলনে নেমেছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের তিনটি উপজেলায় পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দাখিল করে সাদপন্থি আলেম-ওলামাদের জেলা ইজতেমা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জুবায়েরপন্থিরা।

সাদপন্থি আলেম-ওলামারা বলছেন, যে কোনো মূল্যে তারা টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে জেলা ইজতেমার আয়োজন করবেন। অন্যদিকে জেলা ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ব্যানারে জুবায়েরপন্থি আলেমা-ওলামারা বলছেন, টঙ্গিবাড়ীতে আগামী ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সাদপন্থিদের তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা করতে দেওয়া হবে না। তাই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গতকাল বুধবার জেলা ইজতেমা বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দাখিলসহ পৃথক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জেলা ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ব্যানারে জুবায়েরপন্থিরা বুধবার মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলায় পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় দুই হাজার আলেম-ওলামা উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

দাখিলকৃত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের মধ্যে ভারতের বিতর্কিত ও ভ্রান্ত সাদ কান্ধলভি কোরআন- হাদিসবিরোধী বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে এবং এখনও করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের মধ্যে অস্থিরতা ও অশান্তি চলছে। ইজতেমার নামে সাদপন্থিরা মুসলমানদের একত্রিত করে ভুল চিন্তাধারা ও ধর্মের অপব্যাখ্যা, কোরআন-হাদিসবহির্ভূত কথা প্রচার করে ঈমান-আকিদা নষ্ট করছে। তাই 'এতায়াত জামাত (সাদপন্থিদের)' জেলা ইজতেমা আয়োজনে অনুমতি দিলে মুসলমানদের ঈমান নষ্ট হবে। এ পরিস্থিতিতে জেলা ইজতেমা বন্ধ করা না হলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।

এদিকে সিরাজদীখানে সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সরাজদীখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে জেলা ওলামামে কেরাম ও সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা। গতকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার মার্কাজ মসজিদ থেকে সন্তোষপাড়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রায় তিন হাজার সাদবিরোধী ওলামায়ে কেরাম, তাবলিগের সাথী ও সর্বস্তরের জনতা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হজরত মাওলানা বশীর আহমদ, মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী প্রমুখ।