শীতলক্ষ্যা দখল করে জেটি নির্মাণ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

জিয়াউর রাশেদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের হাটাব বাজার সংলগ্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে জেটি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে শুকতারা ও নুরজাহান গ্রুপ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে দখলদারিত্ব। সম্প্রতি হাইকোর্ট নদীর তীরের দেড়শ' ফুট এলাকাকে নদীর সীমানা ঘোষণা করলেও সেটার তোয়াক্কা করছে না শিল্পপ্রতিষ্ঠান দুটি। বরং শীতলক্ষ্যা নদীর সীমানা পিলার ভেকু দ্বারা উপড়ে ফেলে বেড়িবাঁধ ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে বালু ভরাটে মেতে উঠেছে তারা। উপজেলার স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে গেলেই ওই দুটি প্রতিষ্ঠান ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মামলা-হামলার হুমকি দিচ্ছে। এতে করে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় অর্ধশত বছর আগে কৃষি জমি চাষ ও জনগণের বসবাসের স্বার্থে শীতলক্ষ্যা নদী তীর-ঘেঁষে রূপসী থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে সরকার। ওই বেড়িবাঁধটি এখন পাকা সড়কে পরিণত হয়েছে। হাটাব বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের জমিতে ও শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে নুরজাহান গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমে বালুর ব্যবসা গড়ে তোলে। পরে ধীরে ধীরে নদী ভরাট করতে শুরু করে। পাশাপাশি শুকতারা গ্রুপ নামের অপর আরেকটি প্রতিষ্ঠান একই কায়দায় বেড়িবাঁধ দখল করে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করার লক্ষ্যে ভরাট শুরু করে।

আট মাস আগে রূপগঞ্জের তৎকালীন ইউএনও আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম (বর্তমানে ঢাকার এডিসি) ও এসিল্যান্ড আসাদুজ্জামান (বর্তমানে শিবচরের ইউএনও) সরেজমিন বেড়িবাঁধ দখল ও শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। শুধু তাই নয়, তখন ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কোনো প্রকার দখল ও ভরাট কার্যক্রম করবেন না বলে অঙ্গীকার করে। ওই দু'জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে বদলি হওয়ার পর থেকেই শুকতারা ও নুরজাহান গ্রুপের লোকজন বেড়িবাঁধ দখল ও শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট করে তাদের দখল কার্যক্রম আবার শুরু করে। ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বলে বেড়ায়- তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট করে প্রায় ১২ থেকে ১৫ বিঘা জমি দখলে নিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। নদীর যে সীমানা পিলারগুলো রয়েছে, সেগুলো ভেকু দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট নদী ভরাট করে ফেলেছে তারা। ইতিমধ্যে জেটি নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন পিলারসহ অন্যান্য কাজ চলছে।

শুকতারা গ্রুপের সাইট ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, শুকতারা গ্রুপ অর্ধেক জমি নুরজাহান গ্রুপের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। সেখানে জেটি নির্মাণের জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই নদীর পাড় পাইলিং করে জেটি নির্মাণ করছেন তারা।

শুকতারা গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার গাফ্‌ফার মিয়া এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে নদী দখলের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদী দখলকারীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কোনো ছাড় নেই। হাইকোর্ট নদী তীরের দেড়শ' ফুট এলাকাকে নদীর সীমানা ঘোষণা করেছেন। আমরা এর আগেও রূপগঞ্জে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। শিগগিরই রূপগঞ্জে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রূপগঞ্জের ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা ছিল না। এখন যেহেতু জেনেছি, সরেজমিন লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া প্রশাসনকে ম্যানেজ করার বিষয়টি সঠিক নয়।