বন্দরের চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাটে নৈরাজ্য

নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাটে চলছে চরম অরাজকতা। ঘাটে যাত্রী ছাউনি, যাত্রী ওঠানামায় জেটি, যাত্রী পারাপারে সার্বক্ষণিক ট্রলারের ব্যবস্থা নেই। ব্যাপক অব্যবস্থাপনার মধ্যেও আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছামাফিক টোল। এক টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে দুই টাকা। প্রতিবাদ করলেই ইজারাদারের লোকজনের মারধরের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাটটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট। বন্দরের দেউলী চৌরাপাড়া, লক্ষ্মণখোলা, আমিরাবাদ, বক্তারকান্দি, দাসেরগাঁ, গোবিন্দকুল, ফনকুল, শাসনেরবাগ ও লাঙ্গলবন্দ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে নদী পার হন। যাত্রীদের বেশিরভাগ গার্মেন্ট কর্মী-হোসিয়ারি শ্রমিক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।

আক্তার হোসেন নামে এক যাত্রী জানান, যাত্রীসেবা বলতে এখানে কিছুই নেই। পশ্চিমপাড়ে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। বৃষ্টিতে আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় ভিজেই গন্তব্যে রওনা হতে হয়। ছাউনি নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের কারণে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করতে পারছে না সিটি করপোরেশন।

দেউলী চৌরাপাড়া এলাকার শাহজালাল জানান, প্রতিদিন দুটি ট্রলারে যাত্রী পারাপারের কথা থাকলেও চলে মাত্র একটি ছোট ট্রলার। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলারে নদী পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। শুক্রবারসহ বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিনে যাত্রীদের ডাবল ভাড়া গুনতে হয়। নানা অজুহাতে এক টাকার পরিবর্তে আদায় করা হয় দুই টাকা। প্রতিবাদ করলেই ইজারাদারের লোকেরা যাত্রীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

অভিযোগের বিষয়ে ঘাটের ইজারাদার মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ঘাটে গেলে সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঘাটে থাকা তার কর্মচারীরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।