পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

নিরঞ্জন সূত্রধর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিস্বল্পতা ও নদীতে প্রচণ্ড স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানজটের দীর্ঘ সারি পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের চরের নবগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে পড়ে। এ সময় ফেরি পারাপার হতে ঘাটে আসা ট্রাক ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদেরকে ফেরি পারাপারের জন্য ঘাট এলাকায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ নৌরুটে চলাচলরত ১৬টি ফেরির মধ্যে শাহ মখদুম ও ঢাকা ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। এরপর ১৪টি ফেরি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন পারাপার করা হলেও মতিউর রহমান ও মাধবীলতা নামে দুটি ফেরিও গত রোববার বিকল হয়ে পড়ে। এখন ১২টি ফেরি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, এ নৌরুটে চলাচলরত বেশিরভাগ ফেরি দীর্ঘদিনের পুরনো। ফেরির ইঞ্জিনগুলো কয়েক দিন যেতে না যেতেই বিকল হয়ে পড়ছে। এ কারণে এ নৌরুটে প্রায় সারাবছরই ফেরিস্বল্পতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বড় ফেরিগুলো চলাচলে বেশি সমস্যা হচ্ছে। এদিকে মাওয়া নৌরুটে ফেরি চলাচলে সমস্যা হওয়ায় পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানজট দেখা দেওয়ায় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও কোচ পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের দু-তিন দিন করে ঘাটেই পড়ে থাকতে হচ্ছে।

ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা মাদারীপুরগামী সার্বিক পরিবহনের বাসের চালক সায়েদুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাবতলী থেকে বাস ছেড়ে সকাল ১১টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে যানজটে পড়ে। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ফেরি পারাপার হতে পারেননি তিনি। ঢাকার টেকনিক্যাল থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী ট্রাকচালক আওয়াল হোসেন জানান, তিনি গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পটুরিয়া ঘাটে আসেন। কিন্তু পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিস্বল্পতা ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধির কারণে সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ফেরির টিকিট পাননি। এ রকম প্রায় শত শত বাস ও ট্রাক ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ঘাট এলাকায় রয়েছে।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, এ নৌরুটে ফেরিস্বল্পতা, নদীতে দ্রুত পানিবৃদ্ধি ও প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন হওয়ায় ঘাট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ নৌরুটে ১৮টি ফেরি সচল থাকলে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয় না।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মণ্ডল জানান, এ নৌরুটে চলাচলরত বেশিরভাগ ফেরি ৩০-৩৫ বছরের পুরনো। বড় ফেরিগুলো বিকল হয়ে পড়ছে বেশি। এ নৌরুটের ৪টি ফেরি বিকল থাকায় ফেরিস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া নদীতে প্রচণ্ড স্রোতে ফেরি চলাচলে সময় বেশি গালার কারণে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।