বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

চতুর্থ দফার দ্বিতীয় দিন বুধবার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। জিনজিরা ইউনিয়নের মান্দাইল গকুলচর থেকে শুরু হয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান বাবুবাজার ব্রিজ (কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ পাশে) পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এ উচ্ছেদ অভিযান বিকেল পর্যন্ত চালানো হয়। এ সময় ছোট-বড় ১৫১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ১.৫ একর জায়গা দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়। এ উচ্ছেদ অভিযানে দেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য ও উচ্ছেদ অভিযানের প্ল্যানিং অপারেশন মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক মিজানুর রহমান, সহকারী পরিচালক নূর হোসেন।

অভিযান চলাকালে জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা মো. মনির হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বিআইডব্লিউটিএর কাছে অনুরোধ করলেও আমাদের মালপত্র সরানোর সময়টুক দেননি। জিনজিরা বাজার থেকে আগানগর বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, নদীর সীমানার বাইরেই তাদের দোকানপাট ছিল। কিন্তু বিনা নোটিশেই বিআইডব্লিউটিএ তাদের দোকানপাটসহ অন্যান্য স্থাপনা ভাংচুর করে।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, নদীর তীরে সীমানা পিলারের ভেতরে যেসব স্থাপনা আছে, আমরা শুধু ওইসব অবৈধ স্থাপনাই উচ্ছেদ করছি। সীমানা পিলারের বাইরে কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলার ক্ষমতা আমাদের নেই। চতুর্থ দফার উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে ১৫১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তিনতলা তিনটি, দোতলা আটটি, একতলা ২৩টি, আধা পাকা ৬৫টি, বাউন্ডারি ওয়াল ১৪টি ও টিনের ঘর ৩৮টি। এসব স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ১.৫ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উচ্ছেদকৃত জায়গায় ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক, গাইডওয়াল ও তীর প্রটেকশন নির্মাণ করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখানে কয়েক বছর আগেই নদীরক্ষা সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। সীমানা পিলার অতিক্রম করে নির্মিত স্থাপনাগুলোই শুধু উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নদী রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে।